সন্তোষ ট্রফির (Santosh Trophy) আয়োজন ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হল আইএফএ। অসমে আয়োজিত চলতি সন্তোষ ট্রফিতে সূচি, যাতায়াত ও খেলোয়াড়দের মৌলিক সুবিধা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে বাংলার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
IFA সচিব অনির্বাণ দত্তের পাঠানো কড়া চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় ফুটবলাররা শারীরিক ও মানসিক ভাবে মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। দলগুলিকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের মাঠে ম্যাচ খেলতে যেতে হচ্ছে। সেখানে পৌঁছতেই লেগে যাচ্ছে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময়। এক দিনের ব্যবধানে ম্যাচ থাকায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও রিকভারির সুযোগ পাচ্ছেন না খেলোয়াড়রা। দীর্ঘ বাসযাত্রার পর মাঠে নামতে হওয়ায় চোট ও অসুস্থতার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে বলেই অভিযোগ।
শুক্রবার বাংলার গ্রুপ ম্যাচের দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ডিব্রুগড়ে রাজনৈতিক র্যালি ও স্থানীয় উৎসবের জেরে তৈরি হয় তীব্র যানজট। সকাল ন’টার আগেই হোটেল ছাড়লেও বাংলা দল মাঠে পৌঁছয় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে। ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর দুটোয়, কিন্তু দল মাত্র দশ মিনিট আগে পৌঁছনোয় স্বাভাবিক ওয়ার্ম-আপ করার সুযোগই পায়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শুরু হয় ২টা ৪০ মিনিটে। ম্যাচ শেষে ফেরার পথেও একই দুর্ভোগ। খাবার ও জলের কোনও ব্যবস্থা ছাড়াই প্রায় ১২ ঘণ্টার বাসযাত্রা করে পরদিন ভোরে হোটেলে ফিরতে হয় দলকে।
চিঠিতে IFA তরফে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্টেও এর চেয়ে ভালো আয়োজন দেখা যায়। সন্তোষ ট্রফির মতো শতাব্দীপ্রাচীন জাতীয় প্রতিযোগিতায় এমন নিম্নমানের ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কম খরচে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গিয়ে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পেশাদার পরিবেশকে একেবারেই উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

IFA তাদের চিঠিতে লিখেছে, “সন্তোষ ট্রফির আয়োজন সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নিম্নমানের। খেলোয়াড়রা শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, যা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় টুর্নামেন্টেও এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা থাকে। এমন অব্যবস্থা এই ঐতিহ্যশালী জাতীয় প্রতিযোগিতার জন্য লজ্জাজনক।” খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তাই বাংলার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি, যাতে অন্তত কিছুটা বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত বারের চ্যাম্পিয়ন বাংলা এ বারও গ্রুপ শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। মাঠের লড়াইয়ে সাফল্য এলেও, মাঠের বাইরের এই দুর্ভোগে ক্ষোভ চরমে। IFA চায়, ফেডারেশন দ্রুত দায় নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করুক এবং ভবিষ্যতে যেন কোনও জাতীয় টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের এমন অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।




















