রাহুল গান্ধী নাগরিকত্ব বিতর্ক, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি

কংগ্রেস নেতা তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভারতীয় নাগরিকত্ব(Rahul Gandhi Citizenship) সংক্রান্ত বিষয়টি মন্ত্রক পর্যায়ে পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে, বলে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের…

Rahul Gandhi

কংগ্রেস নেতা তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভারতীয় নাগরিকত্ব(Rahul Gandhi Citizenship) সংক্রান্ত বিষয়টি মন্ত্রক পর্যায়ে পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে, বলে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী চেতন শর্মা এ বিষয়ে আদালতকে জানান। আদালতের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তুষার রাও গেদেলা এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ মে তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

   

বিজেপির নেতা সুব্রামণিয়াম স্বামী রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের (মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়) কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আদালতের দিকনির্দেশনা চেয়েছিলেন।

Advertisements

স্বামীর অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলা

স্বামী দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধী ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট একটি চিঠি প্রেরণ করেছিলেন, যেখানে তিনি যুক্তরাজ্য সরকারকে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। স্বামীর মতে এটি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ধারণের সমতুল্য, যা ভারতের সংবিধানের ৯ নম্বর ধারার লঙ্ঘন এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী গান্ধীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব হারানোর কারণ।

স্বামী আরও দাবি করে বলেছেন, তিনি মন্ত্রককে বারবার চিঠি পাঠালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং তার কাছে কোনো তথ্যও জানানো হয়নি। এর আগে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে মন্ত্রক গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়টির সঠিক অবস্থান জানাতে বলেছিল। এবং গান্ধীকে এই বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্টতা

এদিকে এলাহাবাদ হাইকোর্টেও রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে একটি মামলা চলছে। বুধবার কর্ণাটকের বিজেপি কর্মী এস. বিভেশ শীষির এলাহাবাদ হাইকোর্টে তার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে দিল্লি হাইকোর্টকে অবহিত করেন। শীষির দাবি করেন যে তার মামলা রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্বের বিষয়ে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলার সৃষ্টি করেছে, যা সমান্তরাল ও একাধিক প্রক্রিয়াকে জন্ম দিয়েছে।

শীষিরকে দিল্লি হাইকোর্টে তার আবেদন সংযুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে থাকা মামলা সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে বলা হয়।

কোর্টের মন্তব্য

দিল্লি হাইকোর্টের বেঞ্চ বলেন, তারা মন্ত্রক বা যেকোনো পক্ষকে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। “আমরা কাউকে বাধ্য করতে পারি না। মন্ত্রকের কাছে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এটি মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। আমরা মন্ত্রকের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না,” আদালত এ কথা বলেছে।

স্বামী আদালতে আবেদন করেন যে, রাহুল গান্ধীকে মন্ত্রকের চিঠির বিষয়ে একটি উত্তর জমা দিতে বলা হোক, তবে আদালত এটি অনুমোদন করেনি। আদালত আরও জানিয়েছে যে এটি মন্ত্রকের দায়িত্ব এবং তাদের নির্দেশ দিতে আদালত সক্ষম নয়।

পুনঃপ্রতিবেদন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ

অন্যদিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বামী কর্তৃক মন্ত্রককে দেওয়া আবেদন সম্পর্কে কেন্দ্র তাদের অবস্থান জানাবে। তবে মন্ত্রক বর্তমানে এই বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রেখেছে।

এছাড়া আদালত জানায় যে এটি চলমান প্রক্রিয়া এবং তাতে স্বামী বা অন্য কোনো পক্ষের সামান্য হস্তক্ষেপও নয়।

রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্বর ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক ও আইনগত মহলগুলোকে অনেক গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করতে বাধ্য করবে। এখন দেখার বিষয় যে, মন্ত্রক কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং আদালত কি কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে।