‘মাও-প্রভাবিত জেলা ১২ থেকে কমে ৬-এ নেমেছে’, বড় ঘোষণা অমিত শাহের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(Amit Shah) মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, বর্তমানে দেশে মাও প্রভাবিত জেলার সংখ্যা কমে ১২ থেকে মাত্র ৬-এ দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, “মোদী সরকার মাওবাদের বিরুদ্ধে…

Amit

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(Amit Shah) মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, বর্তমানে দেশে মাও প্রভাবিত জেলার সংখ্যা কমে ১২ থেকে মাত্র ৬-এ দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, “মোদী সরকার মাওবাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব নিয়ে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য অবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে এক শক্তিশালী, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে।”

অমিত শাহ আরও জানান, ভারত ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদকে পুরোপুরি উৎপাটিত করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে কাজ করছে। শাহ উল্লেখ করেছেন, “আজ আমাদের দেশ এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। যেখানে সারা দেশে মাওবাদে সবচেয়ে প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১২ থেকে কমে মাত্র ৬-এ নেমে এসেছে।”

   

শাহের এই বক্তব্যটি তিনি মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (পূর্বে টুইটার) এ একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলস্বরূপ মাওবাদী তৎপরতা এবং সহিংসতা বর্তমানে দেশের মাত্র ৬টি জেলায় সীমাবদ্ধ।

Advertisements

মাও প্রভাবিত জেলা এবং তাদের শ্রেণিবিভাগ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অনুযায়ী, লেফট উইং এক্সট্রিমিজম বা বামপন্থী চরমপন্থার প্রভাবিত জেলার মধ্যে সেগুলি অন্তর্ভুক্ত যেখানে মাও কার্যক্রম এবং সহিংসতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই জেলার সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার ফলস্বরূপ এমন অগ্রগতি হয়েছে।

২০১৫ সালে লেফট উইং এক্সট্রিমিজম প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ছিল ৩৫, ২০১৮ সালে তা ৩০-এ নেমে আসে, এবং ২০২১ সালে ছিল ২৫টি। এখন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, এই সংখ্যা ৬-এ পৌঁছেছে, যা সরকারের সফল মাওবাদ বিরোধী পদক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষত, ২০১৫ সালে ‘সবচেয়ে প্রভাবিত জেলা’ এবং ‘চিন্তার জেলা’ এই দুটি শ্রেণীবিভাগ শুরু হয়েছিল, যাতে নাক্সালিজম এর সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়।

মাওবাদ বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ

স্বাধীনতার পর থেকে, মাওবাদ ভারতীয় সমাজ এবং সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মাওবাদীদের দ্বারা পরিচালিত সহিংস কার্যক্রম এবং তাদের অত্যাচারের কারণে বহু অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মোদী সরকারের অধীনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং নীতি গ্রহণ করা হয়েছে যা সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ, এবং অন্যান্য চরমপন্থী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করছে।

অমিত শাহ জানিয়েছেন সরকার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করেছে এবং একই সঙ্গে, মাও প্রভাবিত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলসহ অন্যান্য মৌলিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে, যা মাও প্রভাবিত এলাকাগুলির মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হচ্ছে।

মুখ্য লক্ষ্য – মাওমুক্ত ভারত

ভারত সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে মাওবাদী কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অমিত শাহ আরও বলেছেন, “আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের সব এলাকায় মাওবাদকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে পারব। মাওবাদী কার্যক্রমের মোকাবেলা করতে পারলে দেশের উন্নয়ন এবং শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে।”

তবে সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণের মধ্যে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধিতা থাকে, বিশেষ করে যেখানে মাওবাদী কার্যকলাপ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। তবে, সরকারের তরফে স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নানান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ভারত সরকারের মাওবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে বড় অগ্রগতি হয়েছে, এবং অমিত শাহের এই ঘোষণায় তা পরিষ্কার। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারতের অঙ্গীকার এবং তার কার্যকরী পদক্ষেপের ফলস্বরূপ, দেশের মাও প্রভাবিত এলাকাগুলির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ অবশিষ্ট থাকলেও, আগামী সময়ে ভারতকে এক মাওমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।