ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়াতে ফের চাঞ্চল্য (Pakistan)। এমনিতেই বালোচ বিপ্লবীদের আক্রমণে পর্যুদস্ত পাক সেনা। এর মধ্যেই প্রায় ১৫০ সেনা নিহত হয়েছে। এই আবহেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান দয়ালকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনা আজ দুপুরের দিকে শোরকোট এলাকায় ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে কর্নেল ইমরান দয়ালকে গুলি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন এবং পরে মারা যান। পাকিস্তানি গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সূত্রে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।কর্নেল ইমরান দয়ালের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে।
হাওড়া- হুগলির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই, ম্যাচ গেল অতিরিক্ত সময়ে
ওই হামলায় প্রাণ হারান মোট ২৬ জন নিরীহ ভারতীয় পর্যটক এবং ২০ জন আহত হন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে যে, ইমরান দয়াল ওই হামলার অন্যতম ‘হ্যান্ডলার’ ছিলেন। তিনি পাক সেনাবাহিনীর একজন সক্রিয় অফিসার হিসেবে পোয়াক (পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর) এলাকায় গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ভূমিকায় ছিলেন। জানা গিয়েছে তিনি ১২তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিএসও-১ (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই অভিযোগ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যোগসূত্রের পুরনো অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কর্নেল দয়াল ছিলেন জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাঈদের খুব কাছের সহযোগী। হাফিজ সাঈদ, যিনি ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত এবং ভারত-সহ আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে চাওয়া-পাওয়া জঙ্গিদের একজন।
এই যোগাযোগের কারণে অনেকে মনে করছেন যে, তাঁর হত্যা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং একটা পরিকল্পিত ‘এলিমিনেশন’। অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা এমনভাবে হামলা চালিয়েছে যে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-ও এখনও কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি। স্থানীয় পুলিশও বলছে, তারা পুরোপুরি অন্ধকারে। কোনো দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলিতে তিনি আহত হয়ে মারা যান। কিন্তু এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছে সন্দেহজনক।




















