ভারতে আসতেই হবে! জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন কোচ

ভারতে এসে খেলতেই হবে, এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন বাংলাদেশের (Mustafizur)প্রাক্তন অধিনায়ক ও জাতীয় দলের প্রাক্তন প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে তাঁর ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
mustafizur-rahman-ipl-security-controversy

ভারতে এসে খেলতেই হবে, এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন বাংলাদেশের (Mustafizur)প্রাক্তন অধিনায়ক ও জাতীয় দলের প্রাক্তন প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। আইপিএল ও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক এখন চরম টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে আইপিএলের মিনি নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। স্বাভাবিকভাবেই এই খবর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল।

   

সরকারি চাকুরেরা মা-বাবার দায়িত্ব না নিলেই কাটা যাবে ১০% মাইনে

কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হুমকি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক।

বাংলাদেশে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যদি আইপিএলের মতো একটি টুর্নামেন্টে একজন ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরো বাংলাদেশ দল, সাপোর্ট স্টাফ, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? এই উদ্বেগ শুধু ক্রিকেট মহলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পৌঁছে গিয়েছে কূটনৈতিক স্তরেও।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যেই দু’বার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশের সরকারের তরফ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে খেলতে নামা নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

কিন্তু এই আবেগী ও নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক আলোচনার মাঝেই বাস্তবতার কঠিন দিকটি তুলে ধরেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারত সফর বা বিশ্বকাপ বয়কট করলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হবে ভয়াবহ। সুজনের কথায়, “ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনি কার্যত একঘরে হয়ে যাবেন।”

তিনি আরও বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করলে জিম্বাবুয়ে ছাড়া আর কোন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ খেলতে চাইবে? তখন টিভি কাভারেজ কোথায় পাবেন? স্পনসর আসবে কীভাবে? এই আয়ের ওপরই তো দেশের ক্রিকেট চলে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু আবেগ বা নিরাপত্তার আশঙ্কা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তবতা এড়ানো যায় না।

সুজনের মতে, আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশ না নিলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন বা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। “ক্রিকেট এখন শুধু খেলা নয়, এটা একটি বড় ইন্ডাস্ট্রি। সেখানে না গেলে ক্ষতি শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো দেশের ক্রিকেট কাঠামোর,” বললেন তিনি।

অন্যদিকে, মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশি সমর্থকদের ক্ষোভ এখনও তুঙ্গে। অনেকের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজক দেশের দায়িত্ব, এবং সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়াই মূল সমস্যা। তবে বাস্তবতা হল আইপিএল ও বিশ্বকাপ, দুই ক্ষেত্রেই ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করা বাংলাদেশের পক্ষে সহজ নয়।

সব মিলিয়ে মোস্তাফিজ বিতর্ক এখন শুধু একজন ক্রিকেটারের বিষয় নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক, নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং অর্থনীতির জটিল সমীকরণে। এই সমীকরণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কোন পথ বেছে নেয় সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google