নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন মোদী! মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভবনা

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শীঘ্রই নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। (Modi New Zealand visit)এই সফরে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর হতে চলেছে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে-র সাম্প্রতিক বৈঠকে চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও যাবেন, যারা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা করবেন।

ভারত-নিউজিল্যান্ড FTA নিয়ে আলোচনা ২০২৫ সালের শেষভাগে শেষ হয়। চুক্তির আওতায় নিউজিল্যান্ড ভারতের সব পণ্যের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেবে। অন্যদিকে ভারত নিউজিল্যান্ডের ৯৫ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত বা হ্রাসকৃত শুল্কের সুবিধা দেবে। বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তির ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ এবার রদবদল সিইও দফতরে! সরানো হল সুব্রত পালকে

ভারতীয় টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন গতি পাবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত তার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তিতে কৃষি খাতকে বড়ভাবে বাদ রেখেছে। দুগ্ধজাত পণ্য (দুধ, মাখন, চিজ, দই, হুই ইত্যাদি), চিনি, পেঁয়াজ, মটরশুটি, ভুট্টা, বাদাম, মশলা, ভোজ্য তেলসহ সংবেদনশীল কৃষিপণ্য এই চুক্তির আওতায় আসেনি।

নিউজিল্যান্ডের দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য কোনো শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়নি। তবে আপেল, কিউই ফল এবং মানুকা মধুর জন্য সীমিত ট্যারিফ রেট কোটা (TRQ) এবং ন্যূনতম আমদানি মূল্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই কোটা কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে একটি যৌথ কৃষি উৎপাদনশীলতা পরিষদ গঠন করা হবে, যা ভারতীয় কৃষকদের কিউই ও আপেল চাষে প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ এবং প্রযুক্তি সহায়তা দেবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে নতুন মাত্রা দেবে। বর্তমানে ভারতের মোট ৯টি FTA ৩৮টি দেশকে কভার করছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিককালে ইউকে, ওমান, ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (EFTA) এবং অন্যান্য চুক্তি উল্লেখযোগ্য। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হলে ভারতের রফতানি বৈচিত্র্যকরণে সহায়তা করবে। উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলবেন। আলোচনায় ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি, শিক্ষা, পর্যটন এবং ক্রীড়া খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।