
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই প্রকাশ্যে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলের ফলাফল। প্রায় সবকটি সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে এবারের নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। এই ফল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই এক্সিট পোলের ফল নিয়ে সরব হয়েছেন এবং সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
আরও পড়ুন: ভাঙড়ে দুষ্কৃতীদের হামলা, তৃণমূল কর্মীর দোকানে আগুন
একটি ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই এক্সিট পোলগুলি স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে করানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, চাপ সৃষ্টি করে এই ধরনের ফল প্রকাশ করানো হচ্ছে যাতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, এই সব সমীক্ষার মাধ্যমে ভোটের আগেই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
পরের দিন শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও একই সুরে কথা বলেন তিনি। ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মমতা দাবি করেন, আগের মতোই এবারও তৃণমূল কংগ্রেসই শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করবে। তিনি বলেন, “২০১৬ সালেও অনেকেই ভিন্ন কথা বলেছিল, কিন্তু ফলাফল কী হয়েছিল, সবাই জানেন। এবারও মানুষ আমাদের পক্ষেই রায় দেবে।”
আরও পড়ুন: বাংলায় এক্সিট পোল করতে নারাজ অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া
ভোট শেষ হতেই আরেকটি বড় বিতর্ক সামনে আসে—স্ট্রং রুম নিরাপত্তা নিয়ে। বৃহস্পতিবার রাতেই বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রং রুমের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের সামনে তৃণমূল নেতা শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধরনায় বসেন। তাঁদের অভিযোগ, ইভিএমে কারচুপির চেষ্টা হতে পারে এবং সেই কারণেই তাঁরা নজরদারি জোরদার করতে চান।
এই পরিস্থিতিতেই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন তিনি। স্ট্রং রুম পরিদর্শনের পর বেরিয়ে এসে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটাই একপাক্ষিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে বেশ কিছু জায়গায় অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সেই কারণেই তিনি নিজে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও কড়া সুরে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি ইভিএম লুঠের চেষ্টা করে, তাহলে জীবন-মরণ লড়াই হবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছে। বিরোধীরা যদিও এই মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে, তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কড়া অবস্থান।










