Home Politics মমতার নেতৃত্বে তৈরী হবে ১০ জনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

মমতার নেতৃত্বে তৈরী হবে ১০ জনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

mamata-banerjee-fact-finding-committee-west-bengal-violence

পশ্চিমবঙ্গের ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ফের তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। (Mamata Banerjee)নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং একাধিক দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কমিটিতে মোট ১০ জন সদস্য থাকবেন, যার মধ্যে ৫ জন সাংসদও রয়েছেন। তাঁদের দায়িত্ব হবে রাজ্যের বিভিন্ন “অত্যাচারিত এলাকা” পরিদর্শন করে প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বহু জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করা হয়েছে এবং কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ইভিএমের ব্যাটারির ঘাড়ে হারের দায় চাপিয়ে বিস্ফোরক মমতা

বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অফিসেও হামলার চেষ্টা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই ঘটনায় পাথর ছোড়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এভাবে অত্যাচার করা যায় না। যারা আজ এই কাজ করছে, তারা মনে রাখুক, একদিন তাদেরও এর জবাব দিতে হবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, কেন্দ্রের ক্ষমতায় না থাকলে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে, এবং ইতিহাস বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। তাঁর কথায়, “মানুষকে যদি অত্যাচার করা হয়, তাহলে সময় এলে তার ফল ভোগ করতেই হবে।” এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এছাড়াও তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করেনি এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। “যা ঘটেছে তা বাংলার ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে,” এই মন্তব্য করে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এই অভিযোগের কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে অশান্তির খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী এই হিংসার আবহ নতুন নয়, তবে এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক। তৃণমূল এবং বিজেপি শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Follow on Google