সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই

নয়াদিল্লি: কাফকা থেকে থমাস বার্নহার্ড, মধ্য ইউরোপীয় ঐতিহ্যের আরও একজন মহান লেখক হলেন লাসলো ক্রাজনাহোরকাই (Laszlo Krasnahorkai)। বিশ্বের এই মহাবিপর্যয়ের সময়ে তাঁর সুনিশ্চিত ও দিব‍্যদৃষ্টিপূর্ণ সাহিত্য সম্ভার শিল্পের শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। এই কারণেই ২০২৫-এ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার (Nobel in Literature) জিতলেন এই হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

১৯৫৪ সালে রোমানিয়ান সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব হাঙ্গেরির ছোট শহর গিউলাতে জন্মগ্রহণ করেন ক্রাসনাহোরকাই (Laszlo Krasnahorkai)। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাসে গিউলার মতই প্রত্যন্ত অথচ শান্ত-স্নিগ্ধ এক গ্রামের দৃশ্যপট ফুটে ওঠে।

   

‘সাতান্তাঙ্গো’ নামক সেই উপন্যাস হাঙ্গেরির সাহিত্য জগতে রীতিমত আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য মেলানকোলি অব রেজিসট্যান্স (১৯৮৯ সালে প্রকাশিত, ইংরেজি অনুবাদ ১৯৯৮) পড়ে আমেরিকান সমালোচক সুসান সোনট্যাগ তাঁকে বলেছিলেন সমসাময়িক সাহিত্যের ‘অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার’।

দ্য মেলানকোলি অব রেজিসট্যান্স-এ অস্বস্তিকর ভৌতিক ঘটনার আড়ালে সহিংসতা, অরাজকতা এবং সেনাবাহিনীর ব্যর্থতা কীভাবে একটি শহরকে স্বৈরাচারী অভ্যুত্থানের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।

এই উপন্যাসে শৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে নৃশংস দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে ক্রাসনাহোরকাই-এর কলমে। সাম্প্রতিকতম উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ জার্মানির সমসাময়িক অস্থিরতা ও নৃশংস বাস্তবকে অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ক্রাসনাহোরকাই।

সাহিত্যে কালজয়ী অবদানের জন্য সুইডিশ একাডেমি কর্তৃক প্রদত্ত ১ কোটি ১০ লক্ষ ক্রাউন (১.২ মিলিয়ন ডলার)-এর নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাজনাহোরকাই (Laszlo Krasnahorkai)।

গত বছর এই পুরস্কার জিতেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং। কমিটি তাঁর লেখাকে “ঐতিহাসিক ট্রমা মোকাবেলা করে এবং মানব জীবনের ভঙ্গুরতা উন্মোচিত করে”, বলে উল্লেখ করেছিল। ২০২৫ সালে চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নে নোবেল পুরস্কারের পর এই সপ্তাহে ঘোষিত চতুর্থ পুরস্কার ছিল সাহিত্যের।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন