Offbeat: রথের সময় মা লক্ষ্মী প্রসন্ন করতে উৎসর্গ করুন জগন্নাথের এই উপহার

121
dedicate-this-gift-of-jagannath-to-please-mother-lakshmi

পুরাণে কথিত আছে, জগন্নাথ দেব একটি বিশেষ মিষ্টি দিয়ে স্ত্রী লক্ষ্মীর অভিমান ভঙ্গ করেছিলেন। পুরাণ মতে শ্রী জগন্নাথ দেব ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে নিয়ে পারি দিয়েছিলেন গুন্ডিচা মন্দিরে। স্ত্রী লক্ষ্মীকে সঙ্গে না নেওয়ায় তিনি ক্রোধান্বিত হন এবং রথ যাত্রার পঞ্চম দিন লক্ষ্মী দেবী স্বামীকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেন। স্ত্রীর অনুরোধে জগন্নাথ দেব সম্মতি জানিয়েছিলেন এবং লক্ষ্মীর অভিমান ভঞ্জন করতে উপহারস্বরূপ এই ভোগটি দিয়েছিলেন। এই কারণেই ভোগটির নাম ‘লক্ষ্মী বিলাস’। যা ‘প্রসন্ন ভোগ’ নামেও পরিচিত। এই বিশেষ মিষ্টি দেবী লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয়।

ফি বছরই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ধুমধাম করে পালিত হয় রথ যাত্রা উৎসব। সেই উৎসব সম্পন্ন হয় একাধিক উপাচার মেনে, যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ মিলবে স্কন্দপুরাণে। এই রথ যাত্রা উৎসবের একটি বিশেষ দিন হল আষাঢ় মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথি, যা ‘হেরা পঞ্চমী’ নামে পরিচিত। সাধারণ অর্থে ওই দিনটি হল রথ যাত্রার পঞ্চম দিন। এদিন‘সুবর্ণ মহালক্ষ্মী’ রূপ ধারণ করে সেবকসহ পালকিতে চেপে ওই মন্দিরে উপস্থিত হন। ক্রুদ্ধ লক্ষ্মী দেবীর আগমনের খবর পেয়ে জগন্নাথ দেব গুন্ডিচা মন্দিরের প্রধান দ্বার বন্ধের নির্দেশ দেন। দেবী লক্ষ্মী ভয় দেখিয়ে স্বামীকে ঘরে ফেরাতে চেয়েছিলেন।

গুন্ডিচাতে গিয়ে তিনি স্বামী জগন্নাথের উদ্দেশ্যে সেবককে দিয়ে সংবাদ পাঠান ফিরে আসার জন্য। স্ত্রী লক্ষ্মীর কথায় জগন্নাথ দেব সম্মতি জানিয়ে উপহার হিসেবে পাঠান ‘আজ্ঞা মালা’ এবং দেবীর অভিমান ভঞ্জন করতে ‘লক্ষ্মী বিলাস’।তবে এতেই ক্রোধ যায়নি দেবীর। তাঁর রাগ গিয়ে পড়ে জগন্নাথ দেবের রথের উপর। সেই রথ নষ্ট করার আদেশ দিয়ে দেবী তেঁতুল গাছের আড়ালে লুকিয়ে দেখেছিলেন। এই লুকিয়ে দেখার অর্থ হল ‘হেরা’ আর সমস্ত ঘটনাটি পঞ্চমী তিথিতে ঘটেছে বলে ওই দিনটি ‘হেরা পঞ্চমী’ নামে পরিচিত। নিজের ইচ্ছে ও আদেশ দুটোই পূরণ হওয়ায় লক্ষ্মীদেবী খুশি মনে ‘লক্ষ্মী বিলাস’ খেতে খেতে জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করেন।

এই বিশেষ ভোগ মা লক্ষ্মী ও জগন্নাথ দেব উভয়েরই ভীষণ প্রিয়। প্রতিদিন দুপুরবেলা পুরীর মন্দিরে জগন্নাথ দেবের যে ৫৬ ভোগ প্রসাদ দেওয়া হয়, তার মধ্যে লক্ষ্মী বিলাস একটি। মা লক্ষ্মী ও জগন্নাথ দেবকে তুষ্ট করতে আপনিও বানাতে পারেন এই বিশেষ ভোগ।

লক্ষ্মী বিলাস রেসিপি

উপকরণঃ

ময়দা ২ কাপ, দুধ ১ কাপ, পাটালি (গুঁড়ো করা) আধ কাপ, নারকেল কোরা ১ কাপ, মধু আধ কাপ, খোয়া ক্ষীর ৩০ গ্রাম, ঘি প্রয়োজন মতো, ১ চা-চামচ এলাচ গুঁড়ো

প্রণালীঃ

  • একটি পাত্রে ময়দা, খোয়া ক্ষীর, নারকেল, পাটালি, মধু, এলাচ গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন।
  • এবার অল্প অল্প করে দুধ মেশিয়ে মাখতে থাকুন। (একেবারেই সবটা দেবেন না।)
  • মিশ্রণটি থকথকে হয়ে আসলে অতিরিক্ত দুধ দেবেন না।
  • পুরো মিশ্রণটি এমনভাবে মাখবেন যাতে খোয়া ক্ষীর, গুড় এবং ময়দা খুব ভালোভাবে মিশে যায়।
    কড়াইতে ঘি দিন।
  • মিশ্রণটি অল্প করে তুলে ছোট ছোট বড়ার আকারে ভাজুন।
  • বাদামী হয়ে এলে তুলে নিন।
  • একটি ছড়ানো প্লেটে ভোগটি সাজিয়ে উপর থেকে সামান্য নারকেল কোরা ছড়িয়ে দেবীকে উৎসর্গ করুন।

(সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে পান। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram এবং Facebook পেজ)