তৃণমূলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ৫০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে

বিধানসভায় (West Bengal Assembly) শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পরিষদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা বিধানসভায় (West Bengal Assembly)…

West Bengal Assembly: Questions Over MLAs' Behavior, List of Over 50 MLAs Prepared for Strict Action

বিধানসভায় (West Bengal Assembly) শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পরিষদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা বিধানসভায় (West Bengal Assembly) নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন না, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি দলীয় হুইপ অমান্য করা বিধায়কদের কমিটির সামনে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ৫০ জনের বেশি বিধায়কের নাম রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত সোমবার বিধানসভায় (West Bengal Assembly) অনুষ্ঠিত তৃণমূলের পরিষদীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরি করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধানসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ। বৈঠকে তিনটি খাতায় সই করানো হয়েছে। দুটি খাতায় মন্ত্রীরা এবং একটিতে বিধায়করা সই করেন। তিনটি খাতার বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে দেখা যায়, কতজন বিধায়ক নিয়মিত অধিবেশনে উপস্থিত থাকছেন না এবং তারা সঠিক কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত থাকছেন।

   

তৃণমূল শিবিরের অভিমত, বিধানসভার (West Bengal Assembly) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন আচরণ একেবারেই বালখিল্যতা। দলের হুইপ থাকা সত্ত্বেও বিধায়কদের এই অনুপস্থিতি শৃঙ্খলাহীনতার পরিচায়ক, যা দল মেনে নিতে চায় না। এমনকি দলের নেতারা মনে করছেন, কিছু কিছু বিধায়ক এটা অভ্যাসে পরিণত করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায়।

Advertisements

এই প্রসঙ্গে, হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের পর দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি যেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিল, ঠিক তেমনই এই বিধায়কদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুমায়ুন কবীরকেও যেভাবে সশরীরে কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছিল, তেমনই এই বিধায়কদেরও সশরীরে হাজির হতে হবে।

এমনকি, বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে তৃণমূল কংগ্রেস ১৯ ও ২০ মার্চ বিধানসভায় আসার জন্য হুইপ জারি করেছিল। কিন্তু ১৯ মার্চ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির দিন প্রায় ২১৫ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও পরবর্তী দিন, ২০ মার্চ, ৯০ জনের মতো তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন অধিবেশন কক্ষে। এ ধরনের অনুপস্থিতির কারণ খুঁজতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং নির্মল ঘোষ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, এটি দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন, এবং দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার জন্য এমন আচরণ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। দলের লক্ষ্য, বিধানসভার সকল সদস্য যেন নিয়মিতভাবে উপস্থিত থেকে সংসদীয় কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেন।

এখন দলের পরিষদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এই তালিকা প্রস্তুত করছে এবং অনুপস্থিত বিধায়কদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের আশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে বিধানসভায় সকল সদস্য আরও দায়িত্বশীলভাবে উপস্থিত থাকবেন।