২০২৬ বিধানসভাকে লক্ষ্য করে তৃণমূলের পাঁচ নয়া কর্মসূচি

হাতে আর এক বছর। কিছুদিনের মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট, তার আগে নতুন কর্মসূচির(TMC new programs) কথা ঘোষণা করল রাজ্যের শাষক দল। গত নির্বাচনের পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী…

TMC new programs

হাতে আর এক বছর। কিছুদিনের মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট, তার আগে নতুন কর্মসূচির(TMC new programs) কথা ঘোষণা করল রাজ্যের শাষক দল।

গত নির্বাচনের পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করেছিলেন। এই পদক্ষেপটি ছিল দলের জন্য “মাস্টারস্ট্রোক”। যা তৃণমূলের নির্বাচনী অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল। যদিও কিছু সমালোচক দলের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসাধারণের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

   

চার বছর পরে তৃণমূল ফের ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারিত ও সংস্কার করা হয়েছে, আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে যাতে আরও বেশি মহিলারা উপকৃত হতে পারেন। প্রকল্পটির সাফল্য দেখে মনে হচ্ছে, তৃণমূল এক্ষেত্রে আবারও এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করবে, তবে এবার মহিলাদের আরও বেশি করে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে নতুন কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisements

তৃণমূলের নেতৃত্ব মনে করে, মহিলা ভোটাররা দলের অন্যতম শক্তি। এই কারণে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে যা পুরোপুরি মহিলাকেন্দ্রিক। এগুলি দলের পরিকল্পনার অংশ, যাতে মহিলাদের প্রতি তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

এই নতুন কর্মসূচিগুলির ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূলের উদ্দেশ্য, এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন মহিলাদের কাছে পৌঁছে গিয়ে তাদের জন্য আরও উন্নত পরিকল্পনা তুলে ধরা। এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়নে তৃণমূল কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সম্প্রতি তৃণমূল ভবনে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ও মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-এর নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে ৩৫টি জেলা সংগঠনের সভানেত্রী এবং তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচটি নতুন কর্মসূচির মধ্যে ‘অঞ্চলে আঁচল’ এবং ‘তোমার ঠিকানা, উন্নয়নের নিশানা’ এবং আরও দুটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

অঞ্চলে আঁচল কর্মসূচি শুরু হবে ১ এপ্রিল, ২০২৫ থেকে এবং চলবে ১৫ মে, ২০২৫ পর্যন্ত। এই উদ্যোগের আওতায় রাজ্যের ৩৪৫টি ব্লক এবং ১২৭টি পুরসভা এলাকায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতার জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক সভার আয়োজন করা হবে। যার মধ্যে উত্তর কলকাতায় আটটি এবং দক্ষিণ কলকাতায় বারোটি সভা হবে। এই সভাগুলিতে মহিলারা একত্রিত হয়ে তাদের সমস্যাগুলি, অভিযোগ এবং পরামর্শ জানাবেন। তৃণমূল নেত্রীরা তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন এবং নারীদের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলি সম্পর্কে অবহিত করবেন।

এরপর, ‘তোমার ঠিকানা, উন্নয়নের নিশানা’ কর্মসূচি ১৬ মে থেকে ৩০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির আওতায় তৃণমূল নেত্রীরা বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট এবং প্রচারপত্র বিলি করবেন, যাতে মহিলাদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। তৃণমূলের স্থানীয় নেত্রীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা সম্পর্কে তাঁদের জানাবেন।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস ‘এস হে বৈশাখ’ কর্মসূচি পালন করবে। এই কর্মসূচির অধীনে ‘শঙ্খযাত্রা’ হবে, যা গিরিশ পার্ক থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি উপলক্ষ।

১ জুলাই, ২০২৫-এ ‘রক্তবন্ধন’ কর্মসূচি পালন করা হবে, যার লক্ষ্য অন্তত ২,০০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা। এই দিনটি চিকিৎসক দিবস হিসেবে পালিত হয়, এবং এই কর্মসূচি জনসাধারণকে রক্তদান করতে উৎসাহিত করবে।

এই নতুন কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে, তৃণমূল মহিলাদের মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে আরও শক্তি সঞ্চার করতে চায়, যাতে ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনে তাদের সমর্থন বজায় থাকে। এই উদ্যোগগুলি তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তিকে দৃঢ় করতে সাহায্য করবে এবং মহিলাদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াবে।