ধর্ষকদের জামিন, প্রতিবাদীদের শাস্তি, তৃণমূল সাংসদদের অপমান করায় ক্ষুব্ধ অভিষেক

গত শুক্রবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের সামনে ধর্না দেওয়ার সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। আইপ্যাকদপ্তরে ইডির (ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) অভিযান এবং দলীয়…

TMC MPs Dragged Away from Home Ministry Office: Abhishek Banerjee Expresses Outrage"

গত শুক্রবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের সামনে ধর্না দেওয়ার সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। আইপ্যাকদপ্তরে ইডির (ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) অভিযান এবং দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা এই ধর্না শুরু করেছিলেন। তবে, সকালবেলা দিল্লি পুলিশ তাঁদের চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দেয়, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

Advertisements

এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি টুইটারে লেখেন, “ধর্ষকদের জামিন দাও, আর বিক্ষোভকারীদের জেলে ঢোকাও — এটাই বিজেপির ‘নিউ ইন্ডিয়া’।” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন, যেখানে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নানান ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং অপরাধী ও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) আরও লেখেন, “যদি দেশের বাকি অংশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়, তা হলেও বাংলা প্রতিরোধ করবে। আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব। যতই শক্তি প্রয়োগ করুন, আমরা আপনাদের হারাবই।” এই মন্তব্যটি শুধু পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেয়নি, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি তার গভীর অসন্তোষও প্রকাশ করেছে। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানুষের প্রতিবাদের স্বাধীনতা ক্রমশ খর্ব হচ্ছে, এবং এর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।

   

তৃণমূলের প্রতিবাদী সাংসদরা বিজেপির শাসনকে একেবারে অগণতান্ত্রিক হিসেবে তুলে ধরছেন, যেখানে বিরোধীদের দমন করতে কেন্দ্রীয় শক্তির অপব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠেছে যে, তারা একে অপরকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে, আবার ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা একাধিকবার দাবি করেছেন যে, তাঁদের দলের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আইপ্যাক এবং অন্য তদন্তমূলক সংস্থাগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইডির অভিযানের পর থেকে দলের নেতারা এবং তাঁদের সমর্থকরা ধারাবাহিকভাবে শাসক দলের চাপের মধ্যে রয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন যে, ইডি এবং সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি একমাত্র বিরোধী দলের নেতাদের লক্ষ্য করে কাজ করছে এবং তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করতে চাচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য বিজেপির প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন, যা দেশের অন্যান্য বিরোধী দলের কাছেও এক ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রতিবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে।

 

Advertisements