সেটিং নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কড়া বার্তা তথাগতর

কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে (Tathagata Roy)। মমতার আইনভঙ্গ এবং ইডি তদন্তে হস্তক্ষেপে কেন গ্রেফতারি নয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। রাজনৈতিক মহলের একাংশে আলোচনা…

tathagata-roy-message-bjp-central

কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে (Tathagata Roy)। মমতার আইনভঙ্গ এবং ইডি তদন্তে হস্তক্ষেপে কেন গ্রেফতারি নয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। রাজনৈতিক মহলের একাংশে আলোচনা শুরু হয় তৃণমূল এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরে সেটিং তত্ত্ব নিয়ে। শনিবার বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায় তার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে কেন্দ্রীয় বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন “কেন্দ্র স্তরে বিজেপিকে অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই এমন কিছু দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ধারণা ভেঙে দেওয়া যায় যে বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোনও ‘সেটিং’ বা গোপন বোঝাপড়া রয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন এই সেটিংএর ধারণা আরও জোরালো হয়েছে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি-কে কাজ করতে বাধা দেওয়ার পরেও তারা বিশেষ কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি।”

Advertisements

বাবার সঙ্গে মাঠে নেমে ফুটবল প্রেমীদের হৃদয় ছুঁল শিবিকা,ভাইরাল ভিডিও

   

৮ জানুয়ারি, ২০২৬-এ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) হঠাৎ অভিযান চালায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর দফতর এবং তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। এই অভিযান ২০২০ সালের কয়লা পাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শুরু হয়, যেখানে মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ রয়েছে। ED-র দাবি, এই মামলায় কয়লা পাচারের অর্থের সঙ্গে আইপ্যাকের যোগসূত্র রয়েছে। কলকাতায় ছয়টি এবং দিল্লিতে চারটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে ED তৃণমূলের গোপন নথি, হার্ড ডিস্ক ও ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের কৌশল চুরি করতে চাইছে।

মমতা কয়েক মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে আসেন, হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইলসহ কয়েকটি নথি নিয়ে। ED-র অভিযোগ, মমতা ও রাজ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ED কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে মমতা ও পুলিশের বিরুদ্ধে CBI তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের তরফে মমতা বলেছেন, “আমি কোনও ভুল করিনি। তারা আমার দলের ডেটা চুরি করতে চেয়েছিল।” তিনি দাবি করেছেন যে কয়লা পাচারের টাকা বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কাছে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে প্রমাণ দেখাবেন।

পরের দিন তিনি কলকাতায় বিরাট প্রতিবাদ মিছিল করেন।বিজেপির তরফে মমতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারির দাবি উঠেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। এতে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে বিজেপি ও মমতার মধ্যে কোনও ‘সেটিং’ বা গোপন বোঝাপড়া রয়েছে।

তবে আজ তথাগত রায় তার এক্স পোস্টের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের মতে তথাগত রায়ের এই মন্তব্য বিজেপির অন্দরে অসন্তোষের প্রতিফলন। অনেকে মনে করছেন, ২০১৯ সালের সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে CBI তদন্তে মমতার হস্তক্ষেপের সময়ও কেন্দ্র কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। এবারও ED-র অভিযানে মমতার হস্তক্ষেপের পর কোনও বড় অ্যাকশন না হওয়ায় বার বার এই সেটিং তত্ত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

Advertisements