SSC: কারা যোগ্য এবং কারা অযোগ্য- এটা বাছাই করা সম্ভব নয়, জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার, ২০১৬ সালের এসএসসি-র গোটা প্যানেলই বাতিল করার হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০২৬-র শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজনীয়তা আমরা বোধ করছি না।’ আদালত জানায় পুরো প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
পুরো প্যানেলের সুপ্রিম বাতিলের পর নবান্নে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের সুপ্রিম কোর্টের রায় আমি পড়ে দেখলাম। বিচার ব্যবস্থার উপর আমাদের ভরসা আছে। বিচারপতিদের সম্মান করি। দেশের নাগরিক হিসেবে বিচারপতিকে শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি, এই রায় মেনে নিতে পারছি না।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”রায়ের ৪৬ নম্বর প্যারায় পরিস্কার করে বলা আছে, যারা ইতিমধ্যে চাকরি পেয়েছেন, তাদের কোনও টাকা ফেরত দিতে হবে না। প্যারাগ্রাফ ৪৯-এ বলা হয়েছে, যাদের বাতিল করা হয়েছে, তাদের অ্যালাও করা যাবে যদি প্রয়োজন হয় বয়সে ছাড়, অন্যান্য ছাড় দিয়ে আবার অংশগ্রহণ করার জন্য নতুন নিয়োগে ছাড় দেওয়া যাবে।”
মমতা আরও বলেন, ”আত্মরক্ষার জন্য একটা সুযোগ দেওয়া উচিত। এডুকেশন সিস্টেমটাকে ধ্বংস করা কি বিজেপির টার্গেট? ব্যাপম কেসে কী হয়েছে? ৫০টা লোককে খুন করা হয়েছে। কী শাস্তি হয়েছে? আমাদের এই কেসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে জেলে রেখে দিয়েছে। আমরা তো কিছু বলিনি। একই অপরাধে কতবার শাস্তি পেতে হয়। এসএসসি একটা স্বশাসিত সংস্থা, আমরা হস্তক্ষেপ করি না।”
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে। বাংলাকে কি পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে? আমি এই মাটি তে জন্মেছি। তাই বিজেপির টার্গেটটা বুঝি। কেন্দ্র সরকারের টার্গেটটা বুঝি।”