পাউসি গ্রামের অন্ত্যোদয় আশ্রমে শারদীয়ার বিদ্যারত্ন স্কলারশিপ

নিজস্ব প্রতিনিধি : এককথায় রূপকথার উত্থান। যে অনাথ আশ্রমের পথচলা শুরু হয়েছিল ২৫ বছর আগে, তা আজ আকাশ স্পর্শ করেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম,…

Sharodiya Vidyaratna Scholarship

নিজস্ব প্রতিনিধি : এককথায় রূপকথার উত্থান। যে অনাথ আশ্রমের পথচলা শুরু হয়েছিল ২৫ বছর আগে, তা আজ আকাশ স্পর্শ করেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম, যার প্রতিষ্ঠাতা বলরাম করণ, তিনি নিজেই জীবনের কঠিন সময়ে অভাবের যন্ত্রণা অনুভব করেছেন। ছোটবেলা থেকে নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে লড়াই করেছেন। অভাবের জ্বালা কতটা দুর্বিষহ, তা তিনি ভালোমতো জানেন।

এই কারণেই যখন তাঁর নিজের বলতে কিছুই ছিল না, তখন পথ চলার পথে একদিন দেখেছিলেন একটি বালককে আস্তাকুঁড় থেকে পচা খাবার খেতে। সেই কষ্ট চোখে সহ্য করতে না পেরে, ছেলেটিকে বুকে আগলে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। এটাই ছিল সেই অনাথ আশ্রমের সূচনা।
এরপর যত দিন গিয়েছে, বলরাম করণ দিনরাত এক করে অনাথ আশ্রমকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন সমাজের কাছে এক দৃষ্টান্ত। যখন কাজ শুরু করেছিলেন, তখন পাশে পেয়েছিলেন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারকে।
অনাথ শিশুদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে নিজের জমানো পুঁজি শেষ হয়ে যায়। সেই সময়ে পাউসি গ্রামের প্রত্যেক বাড়ির সামনে রাখতেন মাটির হাঁড়ি। সেই হাঁড়িতে প্রতিদিন গ্রামের লোকেরা চাল রাখতেন, যা দিয়ে একে একে শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন।
সেই অনাথ আশ্রমের অনেক শিশুই আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে রয়ে গেছে এই আশ্রমে, আবার কেউ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ফিরে গিয়েছে নিজের পরিবারের কাছে। এই আশ্রমের শিক্ষার্থীদের জন্য শারদীয়া সংস্থা গত দুই বছর ধরে বিদ্যারত্ন স্কলারশিপ চালু করেছে(Sharodiya Vidyaratna Scholarship )।
অন্ত্যোদয় আশ্রমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তৃপ্ত শারদীয়া সংস্থার কর্ণধার সৌমন কুমার সাহা বলেন, “পাউসি গ্রামের এই অন্ত্যোদয় আশ্রমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমাদের অত্যন্ত আনন্দ হয়েছে। এখানকার অনাথ শিশুরা অত্যন্ত মেধাবী এবং তারা স্কলারশিপ পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য। এই আশ্রমের মতোই আমাদের লক্ষ্যও এক—একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা এবং অনাথ শিশুদের জন্য নির্ভরযোগ্য একটি ভিত্তি তৈরি করা। বলরাম করণের সেবামূলক কাজ আমাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা, যা ভবিষ্যতে আমাদের আরও সাহস ও উদ্দীপনা দেবে।”