কলকাতার মেসি ইভেন্ট নিয়ে নতুন করে তোপ দাগলেন দিলীপ ঘোষ

কলকাতায় লিওনেল মেসির নামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর দাবি, এই ঘটনার…

Political Heat Rises Over Kolkata Messi Event Following Dilip Ghosh’s Statement

কলকাতায় লিওনেল মেসির নামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর দাবি, এই ঘটনার ফলে গোটা দেশজুড়ে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, ফুটবলপ্রেমী বাংলা যে ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করে, সেই ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে অপমান করা হয়েছে।

Advertisements

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা চিরকাল ফুটবলের জন্য পরিচিত। এখান থেকে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার উঠে এসেছেন। মাঠে-ময়দানে ফুটবল বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সেই আবেগকে সম্মান না দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক তারকার নামকে ঘিরে রাজনীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ঘটনা শুধু রাজ্যের মধ্যেই নয়, সারা দেশের কাছে বাংলাকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

   

বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, মেসি ইভেন্টকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও ঘনিষ্ঠ মহলের ভূমিকা রয়েছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আজ ধীরে ধীরে সবকিছু প্রকাশ্যে আসছে। দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের নেতারাই এই পুরো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।” তাঁর দাবি, বিষয়টি আর ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

দিলীপ ঘোষ স্পষ্টভাবে দাবি করেন, যে সমস্ত সংগঠক এই অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন এবং যেসব রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সকলকেই কাঠগড়ায় তোলা উচিত। তাঁর ভাষায়, “সংগঠক থেকে শুরু করে উপস্থিত নেতা-মন্ত্রীরা—সবাইকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে হবে। কে কীভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা সাধারণ মানুষের সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার।”

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে সংস্কৃতি ও খেলাধুলোকেও রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার বানাচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত খেলোয়াড়, ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ এবং রাজ্যের ক্রীড়া সংস্কৃতিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিলীপ ঘোষের মতে, ফুটবলকে কেন্দ্র করে এমন রাজনীতি বাঙালির মানসিকতাকে আঘাত করেছে।

এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে ছিল এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিজেপি নেতা দাবি করেন, যদি সরকার সত্যিই স্বচ্ছতার পক্ষে থাকে, তাহলে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের একাংশের দাবি, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ইস্যুকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে এবং অকারণে বিতর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তৃণমূলের মতে, বিজেপি রাজ্যে কোনও জনভিত্তি না পেয়ে এ ধরনের বিষয় নিয়ে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে।

 

 

Advertisements