কলকাতা: শুক্রবার গেরুয়া জার্সি ছেড়ে ঘাসফুল জার্সি পরে তৃণমূল শিবিরে (Parno Mitra joins Trinamool)যোগ দিলেন অভিনেত্রী পার্নো মিত্র। অভিনেত্রী পার্নো মিত্র, যিনি গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়েছিলেন, তিনি এবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে এই খবর ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তবে তৃণমূলের যোগ দিলেও প্রার্থী হবেন কি পার্নো তা নিয়েও শুরু হয়েছে গভীর জল্পনা।
তার বোল্ডনেস কি প্রার্থী হবার পিছনে কাল হবে? কারণ সম্প্রতি ঠিক এমনি একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। গত ২২ ডিসেম্বর সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক বহুচর্চিত হুমায়ুন কবির ঘোষণা করেছেন তার নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি। দল ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই ১০ জন প্রার্থীর নামও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন হুমায়ুন। ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্যতমা ছিলেন বালিগঞ্জের প্রার্থী নিশা চ্যাটার্জি। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণা করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হুমায়ুন নিশাকে প্রার্থী তালিকা থেকে সরিয়ে দেন।
দেশের নিরাপত্তা জোরদার করতে আজ বড় বৈঠক, কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?
কারণ হিসেবে তিনি বলেন তার কাছে নিশার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের কিছু ব্যাক্তিগত ছবি আসে এবং সেই ছবিগুলি যথেষ্ট খোলামেলা পোশাক পরিহিত। বক্তব্যে হুমায়ুন আরও বলেছিলেন যে তৃণমূলের আইটি সেল মারফত সেই বোল্ড ছবি হুমায়ূনের হাতে এসে পৌঁছয়। এবার সেই তৃণমূলেই নিশার চেয়েও বোল্ড পার্নো। পার্নোর হঠাৎ করেই গেরুয়া জার্সি বদলে রাজনৈতিক মহলের একাংশও এই প্রশ্ন তুলেছেন যে যেখানে রাজ্য রাজনীতির এখন পোশাক বিতর্কে ঝড় উঠেছে, সেই ঝড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কি বিধানসভার টিকিট দেবে পার্নোকে?
নাকি আপাতত তিনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্য ভূমিকা পালন করবেন? কোন কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে, আদৌ তাঁকে ভোটের ময়দানে নামানো হবে কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। তবে টলিপাড়া এবং রাজনৈতিক মহল দু’দিকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই জনপ্রিয় মুখ ও সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের রাজনীতিতে জায়গা দিয়েছে। সেই দিক থেকে পার্নো মিত্রের যোগদান দলের জন্য কতটা রাজনৈতিক লাভজনক হয়, সেটাই এখন দেখার। একই সঙ্গে বিজেপির জন্য এটি যে এক বড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে যখন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তারকা মুখদের ঘিরে আলাদা করে কৌশল সাজানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পার্নো মিত্রের দলবদল শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং টলিপাড়া ও রাজনীতির সংযোগে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা তৃণমূল ভবনে পার্নোর বক্তব্য এবং তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা কী হয়, সেটাই ঠিক করে দেবে আগামী দিনের চর্চা।
