দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনের কাজ দেখভাল করতে আসা এক মাইক্রো অবজারভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী তদারকির কাজ চলাকালীন ওই কর্মকর্তা স্থানীয় কিছু অজানা দুষ্কৃতিবাহিনীর হামলার শিকার হন। ঘটনার পরই কুমারগঞ্জে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মী এবং সমর্থক জড়িত। বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “সমাজবিরোধী দুষ্কৃতীবাহিনীকে ব্যবহার করে এই ধরনের আক্রমণ চালানো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তৃণমূল কংগ্রেস চরম ভয়ের মধ্যে রয়েছে। সাংবিধানিক একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়ার এই অপচেষ্টা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।” মজুমদার আরও দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল দোষীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—এটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক বিপজ্জনক বার্তা। আমরা আশা করি প্রশাসন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও ন্যায্য ব্যবস্থা নেবে।”
স্থানীয়ভাবে, মাইক্রো অবজারভারের মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই কুমারগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং সামাজিক সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা এবং দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন তদারকির কাজে হামলা ঘটানো পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা দুই দফায় প্রভাব ফেলতে পারে একটি হলো স্থানীয় জনমত এবং ভোটপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা। দ্বিতীয় হলো রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যা কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতির মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, অবজারভারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব এবং এই ধরনের আক্রমণ স্বাভাবিকভাবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। কমিশনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “আমরা ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনাস্থলে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।”
