‘নিজের ধর্মকেই বিশ্বাস করেনা!’ হুমায়ুন নিয়ে ফের বিস্ফোরক নিশা

কলকাতা: বালিগঞ্জের প্রার্থী বিতর্কে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সোশ্যাল মিডিয়া (Nisha Chatterjee)ইনফ্লুয়েন্সার ও জন উন্নয়ন পার্টির প্রাক্তন প্রার্থী নিশা চ্যাটার্জি। দলের প্রধান হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে…

nisha-chatterjee-accuses-humayun-kabir-communal-politics

কলকাতা: বালিগঞ্জের প্রার্থী বিতর্কে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সোশ্যাল মিডিয়া (Nisha Chatterjee)ইনফ্লুয়েন্সার ও জন উন্নয়ন পার্টির প্রাক্তন প্রার্থী নিশা চ্যাটার্জি। দলের প্রধান হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে সরাসরি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং অনুভূতি নিয়ে খেলবার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। নিশার দাবি, তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করা থেকে শুরু করে হঠাৎ বাদ দেওয়া পুরো বিষয়টাই পরিকল্পিতভাবে হিন্দু–মুসলিম বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নিশা চ্যাটার্জি বলেন, “আমি একজন সোশ্যাল মিডিয়া অভিনেত্রী। হ্যাঁ, আমি সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই রোজগার করি। বহু বছর ধরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই আমার নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হল, আবার ঠিক ততটাই হঠাৎ করে তা বাতিল করে দেওয়া হল।” নিশার অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও রাজনৈতিক নীতি নয়, কাজ করেছে কেবল বিভাজনের রাজনীতি।

   

চাঁদের দক্ষিণ মেরুর রহস্য উন্মোচন করল ইসরো, সুপারচার্জড প্লাজমা পেল RAMBHA-LP

নিশার আরও দাবি, “উনি এমনভাবে বিষয়টা তুলে ধরছেন যেন আমি হিন্দু বলেই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আবার নিজের বক্তব্যে উনি হিন্দুদের বিরুদ্ধেই কথা বলছেন। এমনকি এমন কথাও বলা হয়েছে ‘হিন্দুদের কেটে গঙ্গায় ফেলে দেওয়া হবে’ এটা কি কোনও রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে?” নিশা স্পষ্ট করে জানান, এমন বক্তব্যের সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত থাকতে পারেন না।

হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে আদর্শগত দূরত্বের কথাও তুলে ধরেছেন নিশা। তাঁর বক্তব্য, “আমি যাঁকে সমর্থন করছিলাম, তিনি নিজের ধর্মকেই সমর্থন করেন না। তাহলে আমি কেন তাঁকে সমর্থন করব?” নিশা জানান, তিনি নিজে একজন হিন্দু হলেও তাঁর আশপাশে মুসলিম ভাই-বোনেরা রয়েছেন এবং তিনি সব ধর্মের মানুষের সঙ্গেই কাজ করেন। সামাজিক কাজের ক্ষেত্রেও তাঁর কোনও বিভাজন নেই।

নিশা আরও বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল এটা একটা সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ দল। এখানে কোনও হিন্দু–মুসলিম ভেদাভেদ থাকবে না। সেই বিশ্বাস থেকেই আমি এই দলে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দলের প্রধান নিজেই বলছেন তিনি হিন্দুদের সমর্থন করেন না, কেবল মুসলিমদের জন্য কাজ করেন।” তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে মুসলিম সমাজের আবেগকেও ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে বাবরি মসজিদের মতো সংবেদনশীল বিষয় টেনে এনে।

এই বিতর্কে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নিশা চ্যাটার্জির অভিযোগ জন উন্নয়ন পার্টির ভিতরের অন্তর্দ্বন্দ্বনকেই সামনে আনছে না, বরং রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের প্রশ্ন তুলছে। পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ, প্রার্থী বাছাইয়ের স্বচ্ছতা এবং ধর্মভিত্তিক বক্তব্য সব মিলিয়ে হুমায়ূন কবির ক্রমশ চাপের মুখে পড়ছেন।

অন্যদিকে, নিশার বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি নিজেকে কোনও একটি ধর্মের প্রতিনিধির বদলে একজন সামাজিক কর্মী এবং স্বাধীন চিন্তার মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। তাঁর কথায়, “আমি হিন্দু, কিন্তু আমার মুসলিম ভাই-বোনদের সঙ্গে কাজ করি। রাজনীতিতে এই বিভাজন আমি মানতে পারি না।” সব মিলিয়ে, বালিগঞ্জের প্রার্থী বিতর্ক এখন শুধু একটি আসনের লড়াই নয় তা পরিণত হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম সাম্প্রদায়িক রাজনীতির এক নতুন সংঘাতে। নিশা চ্যাটার্জির এই বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

Advertisements