বিজেপির অন্দরের অশান্তি নিয়ে ‍‘বিস্ফোরক’ ফাটাকেষ্ট!

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) সম্প্রতি তাঁর বিস্ফোরক…

Mithun Chakraborty Explosive

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) সম্প্রতি তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্যের জন্য আলোচনায় এসেছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর, তিনি বর্তমানে দলের ভিতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বললেন। তাঁর মতে, দলের আগের ফলাফল ভালো না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল দলের মধ্যে বিভাজন এবং একে অপরের সঙ্গে লড়াই করা।

মিঠুন চক্রবর্তী কী বললেন?

মিঠুন চক্রবর্তী এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “এবার আমাদের জিততেই হবে,” এবং এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরও বলেছেন, “আমরা এবার জিতবই।” তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দলের নেতারা যেমন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেককে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নিজেকে একটি আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই কথাগুলি বিজেপি দলের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তবে তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে একেবারে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন।

   

২০২১ সালের নির্বাচনের পর, বিজেপি তাদের প্রচার এবং প্রচেষ্টার পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সফল হতে পারেনি। এ বিষয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “আসলে বোগাস বিষয়টা হল, আমরা তৃণমূলের সঙ্গে লড়িনি। নিজেদের সঙ্গে লড়েছি।” তাঁর এই মন্তব্য দলের ভিতরের অশান্তি এবং অন্তর্দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করছে। মিঠুন চক্রবর্তী এই অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেন।

Advertisements

হিন্দু ভোট নিয়ে মিঠুনের মন্তব্য

এছাড়া, মিঠুন চক্রবর্তী একটি বড় আর্জি জানিয়েছেন, “৯ শতাংশ হিন্দু ভোটার যারা বিজেপি ভোট দেয় না, তারা যেন বিজেপিতে ফিরে আসে।” তাঁর মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যদি বিজেপি না জেতে, তাহলে হিন্দু বাঙালির ভবিষ্যৎ বিপদে পড়বে। তাঁর এই বক্তব্য বিজেপির প্রচারণা এবং দলীয় ইশতেহারের প্রতি সমর্থন বাড়ানোর একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

তবে, তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং দাবি করেছে যে মিঠুন চক্রবর্তীর কথায় ভোটবাক্সে কোনো প্রভাব পড়বে না। তৃণমূলের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেছেন, “এর আগে অমিত শাহের পাশে বসে মিঠুন বলেছিলেন এক কোটি সদস্য হলে রাজ্যটা বিজেপির হবে, কিন্তু সেই টার্গেটেও পৌঁছতে পারেনি বিজেপি। এবারও তাঁর কথায় কেউ ভোট দেবে না।” তৃণমূলের মতে, বিজেপির জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমছে এবং আগামী নির্বাচনে তার ভোট শতাংশ আরও কমবে।

রাজ্যে রাজনৈতিক তাপমাত্রা

এখনও রাজ্যে রাজনৈতিক তাপমাত্রা বেশ উচ্চ রয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্য, বিজেপির ভিতরের অশান্তি, এবং তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগের মাধ্যমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের দিক থেকে অনেক কিছু পরিষ্কার হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দন্দ্বগুলি যে কোনো দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আগামী বছর রাজ্যের ভোটযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, তবে এটা পরিষ্কার যে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কঠিন হবে।