দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া পদক্ষেপ কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের, চালু হচ্ছে রেড লাইট নজরদারি

কলকাতা: রাস্তায় ট্রাফিক আইন অমান্য করা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লাল সিগন্যাল জ্বলার পরেও গাড়ি থামানোর প্রবণতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। শহরের…

কলকাতা: রাস্তায় ট্রাফিক আইন অমান্য করা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লাল সিগন্যাল জ্বলার পরেও গাড়ি থামানোর প্রবণতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রতিদিনই দেখা যায়, লাল আলো উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। এর জেরে বাড়ছে দুর্ঘটনা, যানজটের সমস্যা তীব্র হচ্ছে এবং সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Advertisements

এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। শহরের ব্যস্ত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড়গুলিতে বসানো হচ্ছে রেড লাইট ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরা (RLVD)। প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতার ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে এই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে লাল সিগন্যাল অমান্য করা চালকদের শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে।

   

এই বিশেষ ক্যামেরাগুলিতে ব্যবহার করা হবে আধুনিক ANPR (Automatic Number Plate Recognition) প্রযুক্তি। কোনও গাড়ি লাল সিগন্যাল অমান্য করলেই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করবে। একই সঙ্গে রেকর্ড হবে ঘটনার সময়, তারিখ এবং নির্দিষ্ট লোকেশন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এই সমস্ত তথ্য পৌঁছে যাবে লালবাজারে অবস্থিত কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের কেন্দ্রীয় সার্ভারে।

ট্রাফিক দফতর সূত্রে জানা গেছে, তথ্য যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের কাছে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হবে জরিমানার নোটিস। এই পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ফলে অনলাইনে জরিমানা মেটানোর সুযোগ থাকছে এবং সাধারণ মানুষকে থানায় গিয়ে ঝামেলা পোহাতে হবে না।

এই নজরদারি প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ২.৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বিদ্যমান ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, লাল সিগন্যাল অমান্য করলে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হতে পারে। ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে বারবার একই অপরাধ করলে আরও কড়া শাস্তির ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকদের দাবি, শহরের অধিকাংশ পথ দুর্ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ হল সিগন্যাল অমান্য করা। তাই শুধুমাত্র মানবসম্পদের উপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে দুর্ঘটনার হার কমানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলাও প্রশাসনের লক্ষ্য।

Advertisements