কলকাতায় জোড়া দুর্ঘটনা: ইএম বাইপাসে মৃত্যু, রেড রোডে রক্তাক্ত বাবা–ছেলে

কলকাতা ফের সাক্ষী থাকল জোড়া পথদুর্ঘটনার। মঙ্গলবার গভীর রাতে ইএম বাইপাসে বেপরোয়া গতির বলি হলেন এক বাইক আরোহী। আর বুধবার সকালে রেড রোডে নিয়ন্ত্রণ হারানো…

Kolkata Road Accidents

কলকাতা ফের সাক্ষী থাকল জোড়া পথদুর্ঘটনার। মঙ্গলবার গভীর রাতে ইএম বাইপাসে বেপরোয়া গতির বলি হলেন এক বাইক আরোহী। আর বুধবার সকালে রেড রোডে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি গাড়ি ধাক্কা মারল বিদ্যুতের খুঁটি এবং রাস্তার গাছে। ঘটনায় গুরুতর জখম দুই যাত্রী ও এক পথচারী।

Advertisements

মঙ্গলবার রাতের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় দু’টো নাগাদ ইএম বাইপাসের কালিকাপুরের কাছে বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন অলোকেশ হালদার নামে এক তরুণ। ঢালাই ব্রিজ থেকে রুবি মোড়মুখী ওই যুবকের বাইকের গতি ছিল অত্যন্ত বেশি বলে স্থানীয়দের দাবি। সিংহবাড়ি মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে প্রথমে সজোরে ধাক্কা মারে বাইকটি। তার পর পাশের ডিভাইডারে গিয়ে আছড়ে পড়ে।

   

ধাক্কার তীব্রতায় বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান অলোকেশ। মাথায় হেলমেট না থাকায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্থানীয়দের সাহায্যে রক্তাক্ত অবস্থায় এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, অতিরিক্ত গতি ও হেলমেট না থাকা—এই দুটো কারণেই প্রাণ হারালেন ওই যুবক।

বুধবার সকালের রেড রোড দুর্ঘটনা Kolkata Road Accidents

এর কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার সকালেই আর একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে রেড রোডে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দ্রুতগতিতে আসা একটি সাদা রঙের গাড়ি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে রাস্তার পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মারে। তার পর কিছুটা এগিয়ে গিয়ে একটি গাছেও সজোরে আছড়ে পড়ে গাড়িটি। গাড়ির সামনের অংশ প্রায় সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দমকল ও ট্রাফিক পুলিশের সাহায্যে দু’জনকে গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উভয়েই গুরুতর জখম; তাঁরা বাবা-ছেলে বলে জানা গিয়েছে। ধাক্কায় এক পথচারীও আহত হয়েছেন বলে খবর।

দুটি ঘটনায়ই ‘বেপরোয়া গতি’কে দায়ী করছে পুলিশ

দু’টি দুর্ঘটনার পরই শহরের রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও হেলমেট-নিয়ম না মানা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত গতি এবং নিয়ন্ত্রণহীন চালানো—দুটি ক্ষেত্রেই একই প্রবণতাকে দায়ী করছে তদন্তকারী দল।

Advertisements