প্যান্ট খুলে ধর্ম পরীক্ষার নামে তাণ্ডবের অভিযোগ কলকাতায়, পুলিশ শরণে মইদুল

ধর্মীয় পরিচয় যাচাইয়ের নামে প্রকাশ্য হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। নিউটাউনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলার স্মৃতির। অভিযোগ, ধর্ম…

ধর্মীয় পরিচয় যাচাইয়ের নামে প্রকাশ্য হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। নিউটাউনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলার স্মৃতির। অভিযোগ, ধর্ম পরীক্ষা করার নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়, এমনকি প্যান্ট খুলে দেখানোর জন্যও চাপ দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যেমন শুরু হয়েছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

Advertisements

নিউটাউনের টেকনো সিটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন উত্তর দমদমের বাসিন্দা মইদুল আলি মণ্ডল। অভিযোগকারী মইদুলের দাবি, শনিবার বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ নিউটাউনের বিশ্ববাংলা গেটের কাছে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের লাইভ টক শো চলছিল। সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েই তাঁর উপর হামলা চলে। মইদুল জানান, আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। শুরু হয় গালিগালাজ ও স্লোগান। অভিযোগ, তাঁকে ধর্মীয় পরিচয় প্রমাণের জন্য প্যান্ট খুলে দেখাতে বলা হয়। এই ঘটনায় সঙ্গে থাকা সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও হেনস্থার শিকার হন বলে দাবি।

   

ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মাথায় ফেজ টুপি পরা মইদুলকে ঘিরে ধরে উত্তেজিত কিছু যুবক। চারপাশে চিৎকার, স্লোগান এবং ধাক্কাধাক্কির পরিবেশ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কোনওরকমে সাংবাদিকদের সহায়তায় মইদুলকে একটি গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মইদুল আলি মণ্ডল নিজেকে একজন “রাষ্ট্রবাদী মুসলিম” বলে পরিচয় দেন। তিনি এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শোতে অংশ নিয়েছেন এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক বক্তব্য রেখেছেন। অভিযোগ উঠেছে, শনিবারের ঘটনায় একদল ব্যক্তি দাবি করে, মইদুল আদৌ মুসলিম নন। তাঁদের অভিযোগ, তিনি ফেজ টুপি পরে মুসলিম সেজে টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

এই ভিডিও সামনে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক রঙ নিতে শুরু করে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়, একজন হিন্দু ব্যক্তি মুসলিম সেজে দলের বদনাম করছেন এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাঁকে সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। তৃণমূলের এই দাবির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ মইদুলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন। মইদুলের অভিযোগ, এই অনলাইন আক্রমণ ও হুমকির বিষয়েও তিনি পুলিশের কাছে নালিশ জানিয়েছেন।

kolkata-newtown-religion-test-harassment-maidul-ali-mondal-police-complaint

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে। প্রকাশ্যে কারও ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করার অধিকার কারও আছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অনেকেই ঘটনার সঙ্গে কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলছেন, ধর্ম যাচাইয়ের নামে হিংসার এই মানসিকতা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

রবিবার টেকনো সিটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বক্তব্যও নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, অন্যদিকে মইদুলের গুরুতর অভিযোগ—সব মিলিয়ে নিউটাউনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য।

Advertisements