দেশের ধনী শহরের তালিকায় প্রথম তিনে কলকাতা

দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে ফের একবার গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করল কলকাতা (Kolkata )। ২০২৫ সালের আনুমানিক জিডিপি (GDP) পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের ধনী শহরগুলির তালিকায় প্রথম তিনের…

kolkata-among-top-3-richest-cities-india-gdp-2025

দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে ফের একবার গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করল কলকাতা (Kolkata )। ২০২৫ সালের আনুমানিক জিডিপি (GDP) পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের ধনী শহরগুলির তালিকায় প্রথম তিনের মধ্যে উঠে এসেছে তিলোত্তমা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বই ও দিল্লি এনসিআরের পরেই অবস্থান কলকাতার। এই তালিকা প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে কলকাতার অর্থনৈতিক গুরুত্ব, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে।

Advertisements

টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মুম্বইয়ের মোট জিডিপি প্রায় ২৫.৭৩ লক্ষ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই মুম্বই ভারতের বাণিজ্য ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শেয়ার বাজার, কর্পোরেট সদর দফতর, ব্যাংকিং ও ফিনান্স সেক্টরের কেন্দ্রীভবনের কারণে এই শহর দেশের অর্থনীতিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তার ঠিক পরেই রয়েছে দিল্লি এনসিআর, যার আনুমানিক জিডিপি ২৪.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা। প্রশাসনিক রাজধানী হওয়ার পাশাপাশি শিল্প, পরিষেবা ও রিয়েল এস্টেট সেক্টরের ব্যাপক বিস্তারের কারণেই দিল্লি এনসিআর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

   

এই দুই মেগা শহরের পরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা, যার আনুমানিক জিডিপি ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। এক সময় ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হওয়া এই শহর আজও দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। পাট শিল্প, বন্দরনির্ভর বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা এবং আর্থিক পরিষেবা—সব মিলিয়ে কলকাতার অর্থনীতির ভিত এখনও যথেষ্ট মজবুত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর শহরগুলি যেমন বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই গত এক দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও, ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও বাণিজ্যের উপর ভর করে কলকাতা এখনও দেশের প্রথম সারির অর্থনৈতিক শহরগুলির মধ্যে জায়গা ধরে রেখেছে। বেঙ্গালুরুর আনুমানিক জিডিপি যেখানে প্রায় ১০.৯ লক্ষ কোটি টাকা এবং চেন্নাইয়ের প্রায় ৯.৫ লক্ষ কোটি টাকা, সেখানে কলকাতা স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান কলকাতার দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ভূমিকারই প্রমাণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মুম্বই, দিল্লি এনসিআর, কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই—এই পাঁচটি শহর মিলেই দেশের মোট জিডিপির ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। এর ফলে স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও মূলত বড় শহরকেন্দ্রিক। পরিষেবা খাত, উৎপাদন শিল্প এবং বাণিজ্যের বড় অংশ এই শহরগুলিতেই কেন্দ্রীভূত।

কলকাতার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ। কলকাতা বন্দর, হলদিয়া শিল্পাঞ্চল, তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান—সব মিলিয়ে শহরটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখনও যথেষ্ট। যদিও শিল্পায়নের গতি নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে, তবু সামগ্রিক জিডিপির নিরিখে কলকাতার অবস্থান দেশের প্রথম তিনে থাকা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

২০২৬ সালের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরগুলিতেও মুম্বই ও দিল্লি এনসিআর শীর্ষস্থান ধরে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কলকাতা যদি অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন শিল্পের প্রসারে আরও জোর দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সব মিলিয়ে, দেশের ধনী শহরের তালিকায় প্রথম তিনে কলকাতার উপস্থিতি শুধু গর্বের বিষয় নয়, বরং শহরের অর্থনৈতিক শক্তি ও সম্ভাবনারই স্পষ্ট প্রতিফলন।

Advertisements