কলকাতা পুরসভার ২০২৫-২৬ সালের বাজেট অধিবেশনে শাসক ও বিরোধী সব পক্ষের কাউন্সিলররা মাসিক ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সরব হলেও, মেয়র ফিরহাদ হাকিম তা মেনে নেননি। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে শহরের অর্থনৈতিক কাঠামো সুসংহত করার দিকে মনোযোগী হওয়ার কারণে কাউন্সিলরদের ভাতা বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় শাসক এবং বিরোধী পক্ষের কাউন্সিলরদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।
তৃণমূলের প্রবীণ কাউন্সিলর রত্না শূরের নেতৃত্বে এই দাবিটি উত্থাপিত হয়। তিনি জানান, বর্তমানে কাউন্সিলরদের মাসিক ভাতা ১০,০০০ টাকা হলেও, এটি যথেষ্ট নয়। তাঁর দাবি, এই ভাতা ১৫,০০০ টাকায় উন্নীত করা উচিত, কারণ এখনকার পরিস্থিতিতে কাউন্সিলরদের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক কাউন্সিলরের নিজেদের অফিস না থাকায়, তাদের ভাড়া নিয়ে অফিস চালাতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় একটি চাপ। এছাড়াও বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখন পর্যন্ত ১০,০০০ টাকা ভাতা পেয়ে আসা কাউন্সিলররা মনে করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে এই ভাতা অনেক কম। তাঁদের মতে, ভাতা বাড়ানো হলে তাদের কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং তারা জনগণের জন্য আরও কার্যকরীভাবে কাজ করতে পারবেন।
তবে, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই দাবি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। ২০২৬ সালে বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাজস্ব আদায় বাড়ানোর মাধ্যমে পুরসভার আর্থিক অবস্থা দৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে তার। এজন্য আপাতত ব্যয় সঙ্কোচন নীতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে, যা পুরসভার খরচ কমিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
মেয়র ফিরহাদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি পুরসভার আর্থিক অবস্থা উন্নত হয়, তবে কাউন্সিলরদের ভাতা বৃদ্ধি বিষয়ে পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে, আপাতত সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে, বিরোধী পক্ষের কিছু কাউন্সিলরের মতে, বর্তমান ভাতায় তাঁদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ মন্তব্য করেন, “একজন কাউন্সিলরকে যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, তাতে ১০,০০০ টাকার ভাতা যথেষ্ট নয়। যদি কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত কোনো ব্যবসা থাকে, তবে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সাধারণ কাউন্সিলরদের জন্য ভাতা বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজন।” তিনি রত্না শূরের দাবি সমর্থন করে বলেন, শাসক দলের কিছু কাউন্সিলররা গত পাঁচ বছরে এত অর্থ রোজগার করেছেন, যা দিয়ে তাঁরা নিজের এলাকার অনেক মানুষকেও ভাতা দিতে পারেন।
পুরসভার ভাতা বৃদ্ধির ইতিহাস দীর্ঘ। বামফ্রন্ট সরকারের সময় কাউন্সিলরদের ভাতা ছিল মাত্র ৫,০০০ টাকা, পরে ২০১০ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায় মেয়র হলে তা বাড়িয়ে ৭,০০০ টাকা করা হয়। ফিরহাদ হাকিমের মেয়রত্বে ২০১৫ সালে তা আবার ১০,০০০ টাকায় উন্নীত হয়।
এবার, যদিও ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি, তবুও ভবিষ্যতে পুরসভার আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত হলে, এটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে বলে আশা করছেন কাউন্সিলররা।