পরিবারতন্ত্রে প্রতিবাদী হুমায়ূনের বালিগঞ্জের প্রার্থী মামা

কলকাতা: রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র চলবে না এই স্লোগানকে সামনে (Humayun Kabir Baliganj candidate)রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার আক্রমণ শানিয়েছিলেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবির।…

humayun-kabir-baliganj-candidate-nepotism

কলকাতা: রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র চলবে না এই স্লোগানকে সামনে (Humayun Kabir Baliganj candidate)রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার আক্রমণ শানিয়েছিলেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবির। দল থেকে বহিষ্কারের পর নিজস্ব রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি গড়ে তোলেন তিনি। কিন্তু সেই হুমায়ূন কবিরই এবার পরিবারতন্ত্রের অভিযোগে বিদ্ধ। কারণ, বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তিনি প্রার্থী করেছেন নিজের মামা আবুল হাসানকে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এতদিন যিনি সরব ছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত সেই একই পথে হাঁটলেন। আবুল হাসান শুধু হুমায়ূনের মামাই নন, তিনি আবার হুমায়ূনের মায়ের খুড়তুতো ভাইও। পেশায় প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক আবুল হাসান রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলে অবসর নিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি আদৌ রাজনীতির লোক নন এবং এখনও পর্যন্ত এই প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে হুমায়ূনের সঙ্গে তাঁর কোনও কথাবার্তাই হয়নি।

   

সৌদি মডেলে এবার ঢাকা-ইসলামাবাদ প্রতিরক্ষা জোট? দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ

এই প্রার্থী বদলের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার। এতদিন বালিগঞ্জে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী ছিলেন নিশা চ্যাটার্জি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কিছু ব্যক্তিগত ছবি ঘিরে শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। অভিযোগ, নিশার খোলামেলা পোশাক পরিহিত ব্যক্তিগত ছবি সামনে আসতেই তাঁকে প্রার্থী পদ থেকে সরিয়ে দেন হুমায়ূন কবির। এরপরই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আবুল হাসানকে প্রার্থী করার কথা ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে নিশা চ্যাটার্জি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, তিনি হিন্দু বলেই তাঁকে নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁকে সরানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, একজন মহিলা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জীবন এবং ছবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অপমান করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহল হুমায়ূন কবিরের এই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ বলেই ব্যাখ্যা করছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, যিনি নিজেই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এতদিন সোচ্চার ছিলেন, তিনিই আজ নিজের পরিবারের সদস্যকে টিকিট দিয়ে সেই নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটলেন। অনেকেই বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে যে পরিবারতন্ত্রের কথা হুমায়ূন তুলেছিলেন, এবার সেই অভিযোগ তাঁর দিকেই ঘুরে এল।

আবুল হাসান অবশ্য নিজেকে এই বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি একজন প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক হিসেবে রাজ্যের বহু নামকরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন ঠিকই, কিন্তু রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনও ইচ্ছা তাঁর ছিল না। তবে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হন কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা।

সব মিলিয়ে বালিগঞ্জে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং রাজনীতিতে নীতি, আদর্শ ও পরিবারতন্ত্রের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। হুমায়ূন কবিরের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এই ঘটনায় কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেটাই এখন দেখার।