‘সবাই সুবিধা নিয়েছে!’ বাবার জন্মদিনে হতাশ মুকুল-পুত্র হাপুন

কলকাতা: রাজনীতি থেকে আজ তিনি বহু ক্রোশ দূরে। (Mukul Roy)যিনি একটা সময় বক্তৃতা দিয়ে মাঠ ভরাতেন আজ তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে শুয়ে জীবনের শেষ দিনগুলি…

hapun-ray-disappointment-mukul-roy-illness

কলকাতা: রাজনীতি থেকে আজ তিনি বহু ক্রোশ দূরে। (Mukul Roy)যিনি একটা সময় বক্তৃতা দিয়ে মাঠ ভরাতেন আজ তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে শুয়ে জীবনের শেষ দিনগুলি কাটাচ্ছেন অকথ্য যন্ত্রনায়। মুকুল রায়, বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি একটা সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।

Advertisements

তারপর ২০১৯ এ তৃণমূল ছেড়ে চলে আসেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। আজ ২৩ জানুয়ারী তার জন্মদিবসে স্মৃতিচারণ করেছেন তার ছেলে শুভ্রাংশু রায়। ফেসবুকে একটি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন মুকুল রায়ের কাছ থেকে অনেকেই রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু আজ শেষের দিনগুলিতে তার পাশে কেউ নেই। তিনি নিঃসঙ্গ।

   

‘ব্যান’ থেকে মুক্তি: চিনা নিয়ন্ত্রণ ঝেড়ে ফিরছে টিকটক

শুভ্রাংশু লিখেছেন, “Many Many Happy Returns Of The Day” বলতে পারছি না, কারণ বাবা যে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করছেন, তা আর চোখে দেখা যায় না। তিনি লিখেছেন, “আজ ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজীর জন্মজয়ন্তী একইসাথে সরস্বতী পূজা… নেতাজীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই আমার কাছে রিয়েল হিরো তুমি বাবা।”

শুভ্রাংশু আরও বলেছেন, তার যাবতীয় শিক্ষা, জ্ঞান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সবই বাবার কাছ থেকে শেখা। মানুষের জন্য কাজ করা, সমাজ গড়ার ভাবনা এসবের মূল শিক্ষক ছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু আজ সেই বাবা একা হাসপাতালের বিছানায় কষ্ট পাচ্ছেন। যেখানে একসময় হাজার হাজার মানুষ তাকে ঘিরে থাকত, সেখানে এখন নীরবতা।

মুকুল রায়ের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল ঘটনাবহুল। তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে তার স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয়।

পারকিনসনস ডিজিজ, ডিমেনশিয়া এসব রোগে আক্রান্ত। মস্তিষ্কে জল জমার সমস্যায় অস্ত্রোপচারও হয়েছে। ২০২৪ সালে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান, আইসিইউতে যান। তারপর থেকে তার অবস্থা স্থিতিশীল নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন, যন্ত্রণায় কাতর। রাজনীতির ময়দান থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন তিনি।

শুভ্রাংশুর পোস্টে যে বেদনা ফুটে উঠেছে, তা অনেকের মনে দাগ কাটছে। তিনি লিখেছেন, “সবাই সুবিধা নিয়েছে!” অনেকেই মুকুল রায়ের কাছ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু আজ যখন তার সাহায্যের প্রয়োজন, তখন কেউ পাশে নেই।

“তাদের অনেকেই তোমার দ্বারা উপকৃত ও আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু তোমাকেই ভুলে গেছে কালের নিয়মে…” এই কথাগুলো যেন রাজনীতির নির্মম সত্যকে তুলে ধরছে। যে মানুষটা একসময় ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন, দলের সিদ্ধান্ত নিতেন, আজ তিনি নিঃসঙ্গ।

Advertisements