সম্প্রতি সংসদে পাস হয়েছে নতুন ওয়াকফ বিল (Waqf Bill)। এই বিলকে কেন্দ্র করে দেশের নানা প্রান্তে প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন মুসলিম সমাজের একাংশ। পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাব পড়েছে। গত শুক্রবার কলকাতার পার্ক সার্কাসে এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হন বহু মানুষ। তবে এই আন্দোলনকে ঘিরেই রাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরব হয়েছেন বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় (Garga Chatterjee)।
পার্ক সার্কাসের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকের মুখে শোনা যায় হিন্দি ভাষায় স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের একাংশ সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, “কলকাতাকে শাহিনবাগে পরিণত করব।” উল্লেখযোগ্য, ২০১৯ সালে দিল্লির শাহিনবাগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলেছিল। এই প্রসঙ্গ টেনেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান গর্গ চট্টোপাধ্যায়।
শনিবার ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে গর্গ লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে ওরা হিন্দু না, মুসলমান না। ওরা বহিরাগত। ওদের আর কোন পরিচয় বাঙালি জাতি মান্যতা দেয় না। ভাটপাড়া ওদের না, পার্ক সার্কাস ওদের না। ওরা শুধু বহিরাগত।” তিনি আরও দাবি করেন, “ওদের এক সেট পার্ক সার্কাসে যা করল, ওদের আরেক সেট কাল বাংলার সব শহর ও শিল্পাঞ্চলে যা করবে, তা যদি ইউপি বিহারে গিয়ে করত, আস্ত থাকত না।”
এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। সাহাবুদ্দিন মল্লিক নামে এক ব্যক্তি পালটা মন্তব্য করে লেখেন, “পার্ক সার্কাসে কি করলো? কেউ কি মন্দিরের সামনে গিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে ‘আল্লাহ হুয়াকবার’ বলেছে? কেউ কি হিন্দু সাধু বা সাধারণ নাগরিককে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেনস্থা করেছে? না, কিছুই হয়নি। এই আন্দোলন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হয়েছে, প্রশাসনের সহযোগিতায় হয়েছে।”
তিনি আরও লেখেন, “গান্ধীজি, বাবাসাহেব বা নেতাজিও আন্দোলন করেছেন। সেই পথেই এই প্রতিবাদ হয়েছে। কেউ কোনো বাইক জ্বালায়নি, পুলিশকে মারেনি। কিন্তু আপনি যে আরএসএস-এর ছোপা রুস্তম, তা আমরা বুঝতে পারি।”
পালটা গর্গ লেখেন, “ওরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে চেঁচিয়েছে, হুমকি দিয়েছে যে কলকাতাকে দিল্লির শাহিনবাগে পরিণত করবে। একজন বাঙালি হিসেবে আমি প্রশ্ন করি, এই কাজ তারা অন্য কোনও রাজ্যে গিয়ে করে দেখাক। তারপরে চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা নেব।”
এই বিতণ্ডায় আরেকজন নেটিজেন লেখেন, “গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের মুসলিম বিদ্বেষ স্পষ্ট। ওয়াকফ বিল নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে রামনবমীর হিংসার সঙ্গে তুলনা করছেন তিনি।”
উল্লেখ্য, ওয়াকফ বোর্ড মুসলিম ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রের নতুন আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে নানা ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির বিরুদ্ধেই মূলত মুসলিম সমাজের একটি অংশ প্রতিবাদে সামিল হয়েছে।
এখন দেখার, এই বিতর্ক আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গর্গ চট্টোপাধ্যায় ও সাহাবুদ্দিন মল্লিকের এই কথোপকথন যে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।