নজিরভাঙা নিরাপত্তা ইডি ডিরেক্টরকে! কিসের বিপদ তার?

কলকাতা: কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) ডিরেক্টর রাহুল নবীনের সাম্প্রতিক সফর ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। কনভয়ে একসঙ্গে ছয়টি গাড়ি, প্রায় ৪০…

ed-director-z-plus-security-kolkata-ipac-probe

কলকাতা: কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) ডিরেক্টর রাহুল নবীনের সাম্প্রতিক সফর ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। কনভয়ে একসঙ্গে ছয়টি গাড়ি, প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র জওয়ান, সর্বক্ষণ ঘিরে থাকা CRPF-এর VIP Security Group এই ছবি সাধারণত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা রাজ্যের বিরোধী দলনেতাদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কিন্তু এবার সেই জেড প্লাস স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এক শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থার কর্তার জন্য। প্রশ্ন উঠছে কিসের বিপদ? কেন এতটা সতর্ক প্রশাসন?

সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরাসরি অনুমোদনেই দু’দিনের জন্য ইডি ডিরেক্টরকে জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, দিল্লি বা অন্য রাজ্যে সফরের সময়েও রাহুল নবীন এই মাত্রার সুরক্ষা পান না। অর্থাৎ শুধুমাত্র কলকাতা সফরেই এই বাড়তি নিরাপত্তা যা স্বাভাবিকভাবেই ইঙ্গিত দিচ্ছে কোনও নির্দিষ্ট ঝুঁকির দিকে।

Advertisements

মেট্রো যাত্রীদের জন্য মেগা আপডেট! ১৫ বছর পর ফিরছে টিকিটের এই অফার

   

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন যে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তার সঙ্গে তারা মনে রাখছেন আইপ্যাকের দফতরে ইডি অভিযানের দিনের ঘটনায়। যেখানে প্রশাসনের মাথারা গিয়ে ফাইল নিয়ে চলে এসেছিলেন।

নিরাপত্তার ধরনও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে যাতায়াতের পুরো রুট জুড়ে CRPF-এর বিশেষ প্রশিক্ষিত VIP সিকিউরিটি জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়। কনভয়ে ছিল মোট ছ’টি গাড়ি, যার মধ্যে একটি পাইলট কার। মূল নিরাপত্তা বলয়ে ছিলেন প্রায় ২০ জন জওয়ান, আর সার্বিকভাবে মোতায়েন ছিল ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি টিম। যদিও বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করা হয়নি, তবু প্রতিটি চলাচল ছিল কঠোর নজরদারিতে।

কেন এত কড়াকড়ি? প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক আইপ্যাক-কাণ্ডের তদন্তের পর থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক হয়েছে কেন্দ্র। ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর ফান্ডিং সংক্রান্ত তদন্তে যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট অস্বস্তি তৈরি করেছে। সেই আবহেই ইডি ডিরেক্টরের কলকাতা সফরকে ‘হাই-রিস্ক’ হিসেবে দেখা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত ইডি বা সিবিআই ডিরেক্টররা কলকাতায় এলে সীমিত সংখ্যক CRPF জওয়ান নিরাপত্তায় থাকেন। অতীতে এমন নজির খুব একটা নেই, যেখানে দু’দিনের সফরের জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তই জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।

শুধু যাতায়াতেই নয়, অফিস চত্বরেও ছিল আঁটোসাঁটো পাহারা। কলকাতার CGO কমপ্লেক্সে দু’প্লাটুন CRPF মোতায়েন করা হয়। প্রতিটি গেটে ছিল কড়া নজরদারি, এমনকি সিঁড়ি ও করিডোরেও জওয়ানদের অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। অফিসে প্রবেশ ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই চালু করা হয়, যাতে কোনওভাবেই নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এটি শুধুই নিরাপত্তা নয় এক ধরনের বার্তাও। আইপ্যাক-কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছে, তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।

সব মিলিয়ে, আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কলকাতায় ইডি ডিরেক্টরের সফর ও তার ঘিরে থাকা নিরাপত্তা বলয় রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই নজিরবিহীন সুরক্ষা ব্যবস্থাই বলে দিচ্ছে এই সফরে প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

Advertisements