কলকাতা: সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতার রাজপথ (Congress protest outside Bangladesh High Commission)। পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে সোমবার তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমাগত নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট এবং সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু যুবকদের লিঞ্চিংয়ের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল দলের মাইনরিটি ডিপার্টমেন্ট এবং যুব কংগ্রেস।
শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যাওয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। প্ল্যাকার্ড হাতে ‘স্টপ অ্যাট্রোসিটিস অন মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মাইনরিটি সেলের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য নেতারা। তারা বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সংখ্যালঘুর উপর যে নির্যাতন চলছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।
হাদি হত্যার পিছনে কারা? মুখ খুললেন প্রাক্তন RAW এজেন্ট
ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস লিঞ্চিং, মন্দিরে আগুন, বাড়িঘর লুট এসব ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ভারত সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।” বিক্ষোভকারীরা একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চান ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে, কিন্তু পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। শেষে একটি প্রতিনিধিদলকে অনুমতি দেওয়া হয়।
এই বিক্ষোভ শুধু কংগ্রেসের নয়, রাজ্যের অন্যান্য দল এবং সংগঠনগুলোও একই ইস্যুতে সরব হয়েছে। বিজেপি, বাংলা পক্ষ, হিন্দু মহাসভা সকলেই পৃথকভাবে বিক্ষোভ করেছে। কিন্তু কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ তারা ‘মানুষের আগে দেশ নয়’ স্লোগান তুলে ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিয়েছে।
বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা লজ্জাজনক। কেন্দ্রীয় সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।” যুব কংগ্রেসের নেতারা আরও আক্রমণাত্মক তারা বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন।বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
সাম্প্রতিক দীপু দাসের লিঞ্চিংয়ের পর ভারতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে, যাকে বাংলাদেশের মিডিয়া ‘হামলা’ বলে প্রচার করলেও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তা ‘মিসলিডিং প্রোপাগান্ডা’ বলে খারিজ করেছে। কলকাতায়ও বাংলা পক্ষের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। কংগ্রেসের এই প্রতিবাদে অনেকে দেখছেন রাজনৈতিক সমীকরণের ছোঁয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ফেলার চেষ্টা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা কেন্দ্রের দায়িত্ব, রাজ্যের নয়।
