মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। সেসময় তিনি ঘোষণা করেন, ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন হবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন ‘জগন্নাথ ধাম’। এই প্রকল্পটি ধর্মীয় গুরুত্ব এবং পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করবে।
মমতা জানান, এই ধামটি তৈরি হওয়ার পর পর্যটকরা এবং ভক্তরা পূণ্য লাভের জন্য এখানে আসতে পারবেন। পাশাপাশি, এদিন তিনি আলু চাষের ব্যাপক ক্ষতির বিষয়ে কথাও বলেন এবং ডিভিসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, “ডিভিসি জল ছাড়তে বারণ করলেও তারা তা ছেড়েছে, এর ফলে কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
মমতার এই বৈঠক ছিল একেবারে তাত্ত্বিক এবং বাস্তব বিষয় নিয়ে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা আবারও বিপদে পড়েছেন, বিশেষত আলু চাষীরা। এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এতদিন ধরে আলু চাষ হয়ে আসছিল কিন্তু এবার পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে চাষিরা যেন দিশাহীন হয়ে পড়েছেন।”
এছাড়াও মমতা কুম্ভ মেলা সম্পর্কে বলেন, “এই মেলা প্রতি বারো বছর পরপর হয়, কিন্তু এবার ১৪৪ বছর পর কুম্ভ হচ্ছে, এটা ঠিক নয়।” কুম্ভস্নান নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি, তবে এই ইস্যুতে তিনি বলেন, “অনেক মানুষ এই কুম্ভের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একে কেন্দ্র করে নানা দুর্ঘটনা ঘটেছে, অনেক মানুষ মারা গিয়েছেন।”
মমতার কথায়, “আমরা জানি পুণ্যস্নান সাধনা সংক্রান্তিতে হয়। নিয়ম মেনেই পুণ্য লাভ করা উচিত। ১৪৪ বছর পর কুম্ভ হওয়া নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, তবে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানাবেন সঠিক সত্য কী।” তিনি আরও বলেন, “কুম্ভ মেলার ফলে যারা দুর্ঘটনায় পড়েছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা উচিত।”
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল একেবারে স্বচ্ছ এবং বাস্তবভিত্তিক। তিনি বিশেষ করে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং কুম্ভ মেলা প্রসঙ্গে নানা প্রশ্ন তুলে দেন। এছাড়া, রাজ্য সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যে ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রেও যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন।
এতসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও, রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে জানাতে গিয়ে মমতা আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে রাজ্যে ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়ন এবং পর্যটন অবকাঠামোর প্রসার ঘটানো হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জগন্নাথ ধাম প্রকল্পটি মন্দির সংস্কৃতি এবং পর্যটনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটা শুধু ধর্মীয় জায়গা নয়, বরং এখানকার পরিকাঠামো মানুষের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা হবে।”