বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যু রহস্যে উঠে এল আসল তথ্য

কলকাতা: খুন নয়, আত্মহত্যাই হয়েছে ঝাড়খণ্ড (Beldanga)পুলিশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসতেই নতুন মোড় নিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার ঘটনা। পরিযায়ী…

beldanga-migrant-worker-death-postmortem-report

কলকাতা: খুন নয়, আত্মহত্যাই হয়েছে ঝাড়খণ্ড (Beldanga)পুলিশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসতেই নতুন মোড় নিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার ঘটনা। পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি গত কয়েকদিন ধরে বেলডাঙা-সহ জেলার বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই ঘটনার পেছনের আসল সত্য অবশেষে প্রকাশ্যে এল।

Advertisements

ঝাড়খণ্ডের পলমু জেলার বিশ্রামপুর থানা এলাকার একটি ভাড়া ঘর থেকে গত বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয় বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের ঝুলন্ত দেহ। পেশায় তিনি ছিলেন ফেরিওয়ালা পুরনো বাসনের বদলে নতুন বাসন দেওয়ার কাজ করতেন।

   

নয়াদিল্লি থেকে বিস্ফোরক ভাষণে কি ফাঁস করলেন হাসিনা?

দেহ উদ্ধারের পরই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, ভিন্‌রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবারও প্রথমে সেই অভিযোগই তোলে।

এই খবর যখন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পৌঁছয়, তখন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। টানা দু’দিন ধরে বেলডাঙা ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং ভাঙচুর। পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, হেমন্ত সোরেন আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ঝাড়খণ্ড পুলিশ দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত করবে।

শেষমেশ সেই তদন্তের ফলাফলই সামনে আনল পলমু জেলা পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগার কারণে। তাঁর শরীরে কোথাও আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো যে ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়, সেই ঘরের দরজা ভিতর থেকেই বন্ধ ছিল।

মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার সানি রাজ এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “আমাদের একটি প্রতিনিধিদল ঝাড়খণ্ডে গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছে। নিহতের আত্মীয়দের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়েছে।”

অন্যদিকে, বেলডাঙায় ঘটে যাওয়া অশান্তির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনায় আবারও উঠে এল গুজব ও অসম্পূর্ণ তথ্য কীভাবে একটি গোটা অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়া ও মুখে মুখে ছড়ানো খবর যাচাই না করে বিশ্বাস করার বিপজ্জনক দিকটাও সামনে এসেছে।

Advertisements