বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। (AIMIM)ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। এই আবহে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)।
শোনা যাচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ১০০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মিম। এককভাবে নাকি জোট বেঁধে লড়াই এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না মিললেও, মালদার চাঁচলে দলের কর্মী সভা থেকে মিম যে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিল, তা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলেছে।
চাঁচলে আয়োজিত কর্মী সভায় মিমের উত্তর জোনের সভাপতি মতিউর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূল ও বিজেপি বাদে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠনে তারা প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল ও বিজেপি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
দেশের স্বার্থে, বাংলার স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে যদি সবাই একত্রিত হয় এবং উপযুক্ত আসন বণ্টন হয়, তাহলে জোট করতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।” একইসঙ্গে তিনি জানান, মিম অন্তত ১০০টিরও বেশি আসনে লড়াই করতে চায়।
মালদা জেলায় মিমের সংগঠন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে বলেও দাবি করেন দলের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম। তাঁর কথায়, মালদার ১২টি বিধানসভার মধ্যে ৮ থেকে ১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মিম। এমনকি চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ককে পরাস্ত করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এই লক্ষ্যেই চাঁচলে কর্মী বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দল।
অন্যদিকে, এই দাবি কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন চাঁচল বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “এগুলো সব ভোটের আগে বাজার গরম করার চেষ্টা। বাংলা বা চাঁচলের মানুষ মিম দলকেই চেনে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের উপর মানুষের আস্থা রয়েছে। তৃণমূলই জিতবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই মিম ও অন্যান্য দল বাংলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নামছে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির মালদা উত্তর সাংগঠনিক সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, তৃণমূল শাসনে সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেই বিকল্প পথ খুঁজছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করেছে এবং এখন সেই বাস্তবতা তাদের সামনে স্পষ্ট।
এদিকে মিমের তরফে বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও সামনে এসেছে। দলের মালদা জেলার সাধারণ সম্পাদক এমডি কাবির ঘোষণা করেন, মিম ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের অনুদান বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার প্রকল্পের নামে ভিক্ষা দেয় এবং তা পেতে কাটমানি দিতে হয়। মিম ক্ষমতায় এলে কোনও কাটমানি লাগবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ‘হায়দরাবাদ মডেল’ চালু করা হবে, যেখানে বিবাহযোগ্য মেয়েরা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে সরাসরি ২ লক্ষ টাকা পাবেন।
এছাড়াও এমডি কাবির অভিযোগ তোলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এসআইআর থেকে ওয়াকফ বিল সবই বিজেপির নির্দেশে কার্যকর করছে তৃণমূল। এমনকি বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলাও বিজেপি-তৃণমূলের ‘সেটিং’-এর ফল বলে দাবি করেন তিনি।
এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন তৃণমূল বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ। তাঁর মতে, এই ধরনের ভাষা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। “যারা রাজনীতির ভাষা বোঝে না, তারাই ভোটের আগে ২–৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে মানুষের মন ভোলাতে চায়।
এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না,” বলেন তিনি। সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে মিমের এই ঘোষণা ও জোট-রাজনীতি বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
