Home West Bengal North Bengal জন্মদিনে আড়ম্বর নয়, চা বাগানে শিক্ষার আলো ছড়ালেন সাংবাদিক সৌরভ

জন্মদিনে আড়ম্বর নয়, চা বাগানে শিক্ষার আলো ছড়ালেন সাংবাদিক সৌরভ

journalist-sourav-ray-birthday-donation-dictionary-tea-garden-students

শিলিগুড়ি: জন্মদিন মানেই আলোর রোশনাই, দামি উপহার বা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান! এই প্রথা ভেঙে সম্পূর্ণ আলাদা পথে হাঁটলেন উত্তরবঙ্গের পরিচিত সাংবাদিক সৌরভ রায়। ২ মে তাঁর জন্মদিন। ৩২ বছরে পা দিয়ে তিনি কোনও জাঁকজমক করলেন না। বরং শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া ব্লকের দুর্গম চা বাগানের দরিদ্র শিশুদের হাতে শব্দের জাদুকরী ভাণ্ডার অক্সফোর্ড ডিকশনারি তুলে দিলেন।

- Advertisement -

সৌরভের মানবিক উদ্যোগ

দীর্ঘ ১৪ বছর সাংবাদিকতার পেশায় থাকলেও সৌরভ বিশ্বাস করেন, খবরের বাইরেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে। আর সেই চিন্তা থেকেই শনিবার তিনি তরাই অঞ্চলের পাঁচটি চা বাগানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ভোজনারায়ণ, গয়াগঙ্গা, কমলা, মতিধর এবং খাড়োভাঙা চা বাগানের মেধাবী কিন্তু দুঃস্থ পড়ুয়াদের হাতে প্রায় ২৫টি অক্সফোর্ড ডিকশনারি তুলে দেন তিনি।

   

আরও পড়ুন: নির্বাচন মিটতেই উত্তপ্ত তুফানগঞ্জ! বিজেপি নেতার দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

সৌরভ রায় বলেন, “আজকাল সবকিছুই ডিজিটাল, কিন্তু চা বাগান এলাকার অনেক জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া দুষ্কর। সেখানে অনলাইনে শব্দের অর্থ খোঁজা বিলাসিতা। একটি ভালো ডিকশনারি একজন পড়ুয়ার কাছে শুধু বই নয় , একটি দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ। এটি বছরের পর বছর তাঁর পরিবারের অন্যান্যদেরও কাজে লাগবে।”

জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন

সৌরভ রায়ের এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। কমলা চা বাগানে উপস্থিত ছিলেন ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রিনা এক্কা এবং কর্মাধ্যক্ষ সুনীতা মণ্ডল। মতিধর চা বাগানে কর্মাধ্যক্ষ সাহিদ হুসেন এবং খাড়োভাঙায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি রোমারেশমি এক্কা উপস্থিত ছিলেন।

রোমারেশমি এক্কা বলেন, “সাংবাদিক সৌরভ রায় খবরের কাজের বাইরেও যে সামাজিক চিন্তাভাবনা করেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এই উদ্যোগ অন্য যুবকদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

আরও পড়ুন: বিজেপি ক্ষমতায় এলে বন্ধ হবে ‘অভিষেক ট্যাক্স!’ প্রতিশ্রুতি হিমন্তর

আবেগঘন মুহূর্ত

ভোজনারায়ণ চা বাগানে বাবা-হারা দুই ভাই উত্তম ও প্রিয়তম মুর্মুর হাতে ডিকশনারি তুলে দেওয়ার সময় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁদের মা খুশিতে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। গয়াগঙ্গা চা বাগানের গোল্ডি কুজুর, অঙ্কুশ চিকবড়াইকদের মতো খুদে পড়ুয়াদের হাসিমুখ ছিল সৌরভের জন্মদিনের সেরা উপহার।

সৌরভের সংকল্প

১৯৯৪ সালে কোচবিহারে জন্ম নেওয়া সৌরভ রায় বর্তমানে শিলিগুড়িতে কর্মরত। তিনি একটি সংবাদপত্রের ডিজিটাল বিভাগের প্রধান। প্রতি বছর নিজের জন্মদিনে এমন মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার সংকল্প তিনি করেছেন। তাঁর এই প্রচেষ্টা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর কাছে এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিকতার পেশার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজ করে সৌরভ রায় প্রমাণ করলেন, খবরের বাইরেও একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব অনেক বড়। তাঁর এই উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য যুবকদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Follow on Google