
লখনউ: কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ সংক্রান্ত বৃহৎ মামলায় কঠোর অবস্থান নিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। লখনউয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই মামলায় কোনো অভিযুক্তই রেহাই পাবে না। আর সময় এলে বুলডোজার অ্যাকশনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে। তখন কেউ অভিযোগ করবেন না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যের মাদকবিরোধী অভিযানে আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে মোট ৭৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মামলায় মোট ২২৫ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৭৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রশাসন ১৩৪টি সংস্থায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের দাবি, এটি কেবল শুরু, তদন্ত আরও গভীরে গেলে বড়সড় নাম উঠে আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “এই মামলায় যদি গভীরে যাওয়া হয়, তাহলে দেখা যাবে যে শেষ পর্যন্ত সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত কোনো নেতা বা ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়নি।
কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ মূলত চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হলেও এর অপব্যবহার করে মাদক হিসেবে পাচার করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল। প্রশাসনের দাবি, একটি সুসংগঠিত চক্র রাজ্যের ভেতরে ও বাইরে এই নিষিদ্ধ কাশিরাপ পাচারের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রেক্ষাপটে উত্তরপ্রদেশ সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, পুরো বিষয়টি এনডিপিএস (নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস) আইনের অধীনে বিচার করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “উত্তরপ্রদেশ সরকার এই আইনি লড়াই লড়েছে এবং আমরা তাতে জয়ী হয়েছি।” তার মতে, এই নির্দেশের ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
বুলডোজার অ্যাকশন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইনভঙ্গকারীরা যদি অবৈধভাবে সম্পত্তি গড়ে তোলে বা অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্ত থাকে, তাহলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, সরকার কোনো চাপ বা অভিযোগকে ভয় পায় না এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই অভিযান শুধুমাত্র কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তিকে নিশানা করার জন্য নয়, বরং মাদকমুক্ত উত্তরপ্রদেশ গড়ার লক্ষ্যে। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “আমাদের সরকার যুবসমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর।”










