
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) গোরক্ষপুরের ঐতিহ্যবাহী গোরক্ষনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে ‘জনতা দর্শন’ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষজন নিজেদের সমস্যা, অভিযোগ ও আবেদন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান।
গোরক্ষনাথ মন্দির দীর্ঘদিন ধরেই যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও তিনি এই মন্দিরের মহন্ত ছিলেন। তাই প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি এই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেই তিনি প্রায়শই জনসংযোগমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকেন। ‘জনতা দর্শন’ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের কাছে নিজেদের কথা তুলে ধরতে পারেন।
এই জনতা দর্শনে অংশ নিতে সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। কেউ এসেছেন জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে, কেউ বা স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, পুলিশি সহায়তা কিংবা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ জানাতে। মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।অনেক ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে আধিকারিকদের ফোন করে সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন। আবার কিছু জটিল বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, যাঁরা অভিযোগগুলি নথিভুক্ত করেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য দায়িত্ব নেন।
জনতা দর্শনের মাধ্যমে সরকারের “জনমুখী প্রশাসন” নীতির প্রতিফলন ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত গ্রাম বা মফস্বলের মানুষের পক্ষে বড় প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ জানানো সহজ হয় না। সেই ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি নিজের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাওয়া তাঁদের কাছে বড় স্বস্তির। এই ধরনের কর্মসূচির ফলে প্রশাসনের ওপরও চাপ তৈরি হয়, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়। যোগী আদিত্যনাথ বারবার জানিয়েছেন, মানুষের সমস্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধানই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। জনতা দর্শনের মঞ্চ থেকেই তিনি আধিকারিকদের সতর্ক করে দেন, কোনও অভিযোগ অবহেলা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াচ্ছে। অনেকেই জানান, আগের তুলনায় এখন প্রশাসনিক কাজে সাড়া পাওয়া সহজ হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা এই জনতা দর্শনকে নিজেদের কথা বলার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।










