উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মহাকুম্ভ মেলার শেষ মুহূর্তে সমালোচকদের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। রাজ্য বিধানসভায় এক বক্তব্যে তিনি কুম্ভমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বিরোধীদের কঠোর ভাষায় নিশানা করেন।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “কুম্ভ এমন একটি স্থান যেখানে মানুষ যা চায় তা পায়। শকুনরা মৃতদেহ পায়, শূকররা ময়লা পায়… কিন্তু সংবেদনশীল মানুষরা পায় সম্পর্কের এক সুন্দর ছবি, ব্যবসায়ীরা পায় ব্যবসা, ভক্তরা পায় পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা
এটি বিরোধী পক্ষের নেতাদের প্রতি তার প্রতিক্রিয়া ছিল, যারা কুম্ভ মেলা নিয়ে নানা সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে, কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া পদদলিত ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যুর পর বিরোধী দলগুলি এই মেলার আয়োজনের সমালোচনা করতে শুরু করে। যোগী আদিত্যনাথ বিরোধীদের এই সমালোচনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “যারা অভিযোগ করেছেন, তারা ভুল বলছেন। কোনো জাতিকেই কুম্ভে যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। যে কেউ ভালো মনোভাব নিয়ে কুম্ভে আসবে, তাকে স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
এছাড়াও, তিনি ২০১৩ সালের কুম্ভ মেলার প্রসঙ্গে বলেন, “তখন কুম্ভ ছিল অশান্তি, দুর্নীতি এবং দূষণের মধ্যে। স্নান করার পানি ছিল অস্বাস্থ্যকর, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন।”
যোগী আদিত্যনাথ বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “যখন কুম্ভ মেলার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়নি। “তখনের মুখ্যমন্ত্রী কুম্ভের পরিস্থিতি দেখার সময় পাননি, তাই কুম্ভের দায়িত্ব দেন একজন ‘অ-সনাতনী’কে।”
যোগীর বক্তব্যের পর, কুম্ভ মেলা নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেতা মাল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির নেতা জয়া বচ্চন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কুম্ভ মেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে অভিযোগ করেছেন। মমতা ব্যানার্জী “মৃত্যুকুম্ভ” বলে কুম্ভ মেলার সমালোচনা করেন, যা নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও কুম্ভ মেলার সমালোচকদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা ধর্মকে অপমান করে, তারা দেশের একতাকে দুর্বল করতে চায়।”
মহা কুম্ভ মেলা নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্ক এখন শীর্ষে, যা দেশের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিচিতির বিষয়েও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।