২০২৫ সাল জুড়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এনে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp features 2026) আবারও প্রমাণ করেছে যে এটি শুধুমাত্র একটি মেসেজিং অ্যাপের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। চ্যাটিং অভিজ্ঞতা উন্নত করা থেকে শুরু করে অডিও-ভিডিও কল, মাল্টি-ডিভাইস সাপোর্ট, প্রাইভেসি কন্ট্রোল এবং Meta AI–ভিত্তিক ফিচার—সব দিকেই বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে বছর শেষের মুখে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, হোয়াটসঅ্যাপের আসল রূপান্তর সম্ভবত ২০২৬ সালেই দেখা যাবে।
বর্তমানে Android ও iOS-এর একাধিক বিটা ভার্সনে যে নতুন ফিচারগুলির উপস্থিতি ধরা পড়ছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা। হোয়াটসঅ্যাপ ধীরে ধীরে আরও বেশি AI-নির্ভর, নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক এবং ব্যবহারকারীর পরিচয় ও গোপনীয়তার উপর জোর দেওয়া একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে চলেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন হোয়াটসঅ্যাপকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি স্মার্ট ডিজিটাল কমিউনিকেশন হাবে রূপান্তরিত করবে।
সবচেয়ে আলোচিত আপডেটগুলির মধ্যে রয়েছে AI-Powered Imagine Tools for Status। এই ফিচারের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস ব্যবহারকারীরা Meta AI-এর সাহায্যে সরাসরি অ্যাপের মধ্যেই ছবি এডিট করতে পারবেন। সাধারণ ফিল্টারের সীমা ছাড়িয়ে ব্যবহারকারীরা টেক্সট প্রম্পট দিয়ে ছবি নতুনভাবে তৈরি, অবাঞ্ছিত বস্তু মুছে ফেলা, ডিটেল বাড়ানো কিংবা স্থির ছবিকে অ্যানিমেটেড ভিজ্যুয়ালে রূপান্তর করার সুবিধা পাবেন। Android-এ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পর iOS বিটাতেও এই ফিচারের দেখা মিলেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে দু’টি প্ল্যাটফর্মেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।
আরেকটি বড় পরিবর্তন হতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম ফিচার। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর ছাড়া যোগাযোগের বিকল্প চেয়ে আসছিলেন। নতুন ইউজারনেম সিস্টেম চালু হলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউনিক নাম আগেভাগেই রিজার্ভ করতে পারবেন। এর ফলে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে চ্যাট করতে ফোন নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। বিটা আপডেট অনুযায়ী, ভুয়ো পরিচয় বা প্রতারণা রুখতে ইউজারনেমের ক্ষেত্রে থাকবে কঠোর নিয়ম। যদিও অফিসিয়াল লঞ্চ তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি, তবে ২০২৬ সালেই এই ফিচার সাধারণ ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছতে পারে বলে আশা।
স্টোরেজ সমস্যায় ভোগা ব্যবহারকারীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ আনছে Advanced Chat Clearing Tool। এই টুলের সাহায্যে পুরো চ্যাট ডিলিট না করেই আলাদা করে ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট, ভয়েস নোট বা স্টিকার মুছে ফেলা যাবে। বিশেষ সুবিধা হল, ডিলিট করার আগে কতটা স্টোরেজ ফাঁকা হবে তা আগেই দেখা যাবে। Starred মেসেজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুরক্ষা থাকায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কমবে। এই ফিচার ইতিমধ্যেই iOS বিটায় রোলআউট শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ আরও এক ধাপ এগিয়ে আনছে Strict Account Security Mode। একটি মাত্র অপশন অন করলেই একসঙ্গে একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যাবে। অজানা নম্বর থেকে কল সাইলেন্ট করা, গ্রুপ ইনভাইট সীমিত করা, প্রোফাইল তথ্যের দৃশ্যমানতা কমানো এবং বাধ্যতামূলক টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন—সবই এই মোডের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে যাঁরা স্ক্যাম বা সাইবার হুমকির শিকার, তাঁদের জন্য এই ফিচার অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
গ্রুপ চ্যাট ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করতে হোয়াটসঅ্যাপ আনছে @all মেনশন ফিচার। ছোট গ্রুপে যেকোনও সদস্য এই মেনশন ব্যবহার করতে পারলেও বড় গ্রুপ ও কমিউনিটিতে শুধুমাত্র অ্যাডমিনদের এই ক্ষমতা দেওয়া হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন কমবে এবং জরুরি বার্তা সবার কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালে হোয়াটসঅ্যাপ নিজেকে শুধুমাত্র একটি মেসেজিং অ্যাপ নয়, বরং AI, নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল পরিচয়ের সমন্বয়ে তৈরি একটি শক্তিশালী কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরতে চলেছে।
