
১৯৯০ সালের রাওয়ালপোরা জঙ্গি হামলার মামলায় বড়সড় অগ্রগতি ঘটেছে (Yasin Malik)। জম্মুতে বিশেষ টাডা আদালতে সম্প্রতি একাধিক চোখের সাক্ষী জেকেএলএফ প্রধান ইয়াসিন মালিককে মূল শুটার হিসেবে শনাক্ত করেছেন। এই হামলায় চারজন ভারতীয় বিমানবাহিনী কর্মী নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার রবি খান্না।
শহিদের স্ত্রী নির্মল খান্না সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেছেন, মালিক নিজে রাস্তা জিজ্ঞাসা করে কাছে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়েছিলেন। ৩৫ বছরের পুরনো এই মামলায় এই সাক্ষ্য ন্যায়ের পথে একটি মাইলফলক।১৯৯০ সালের ২৫ জানুয়ারি সকালে শ্রীনগরের রাওয়ালপোরা এলাকায় বিমানবাহিনীর কর্মীরা অফিস যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
হঠাৎই জেকেএলএফ জঙ্গিরা অতর্কিত গুলি চালায়। চারজন শহিদ হন স্কোয়াড্রন লিডার রবি খান্না এবং ২২ জন আহত হন। এই হামলা কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের শুরুর অন্যতম নৃশংস ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। সিবিআই ১৯৯০ সালেই মালিক সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে, কিন্তু মামলা দীর্ঘদিন আটকে ছিল। ২০২০ সালে চার্জ গঠনের পর ফের গতি পায়।
সম্প্রতি আদালতে হাজির হওয়া সাক্ষীরা যারা নিজেরা বিমানবাহিনীর কর্মী এবং সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মালিককে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করেন। একজন সাক্ষী বলেন, মালিকই প্রধান গুলিচালক ছিলেন। ক্রস-এক্সামিনেশনে তাঁরা নিজেদের বক্তব্যে অটল থাকেন। তিহার জেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে হাজির মালিকের সামনেই এই শনাক্তকরণ হয়। শহিদ রবি খান্নার স্ত্রী নির্মল খান্না বহু বছর ধরে ন্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি স্মরণ করেন, সেই দিনের ভয়াবহতা কীভাবে মালিকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা নিরস্ত্র সেনাকর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই সাক্ষ্যের পর পরিবারের মনে আশার আলো জ্বলে উঠেছে।এই মামলা শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়, কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক। মালিক ইতিমধ্যে সন্ত্রাসে অর্থায়নের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এছাড়া রুবাইয়া সাইদ অপহরণের মামলাও চলছে। প্রসিকিউশন চাইছে সর্বোচ্চ শাস্তি। আদালতের পরবর্তী শুনানি শীঘ্রই।




