বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম জীবনে কি করতেন জানেন ?

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী (world leaders)রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা যারা এখন সারা বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু তারা কি কখনও সেই অবস্থায় পৌঁছবেন, তা কল্পনাও করা যেত না।…

world-leaders-first-jobs-before-power

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী (world leaders)রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা যারা এখন সারা বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু তারা কি কখনও সেই অবস্থায় পৌঁছবেন, তা কল্পনাও করা যেত না। কারণ তারা প্রথম জীবনে বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত পেশায় সময় কাটিয়েছেন।

Advertisements

অনেকের জীবনের প্রথম কাজ ছিল সাধারণ-মানুষের মত কাজ বা এমনকি বিনোদন-সম্পর্কিত পেশাও। আসুন জানা যাক কিছু আন্তর্জাতিক নেতার প্রথম পেশা বা জীবিকার গল্প যা দেখে বোঝা যায়, কঠোর পরিশ্রম, সাধারণ সংস্কৃতি এবং ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা কত বড় ভূমিকা রাখতে পারে নেতৃত্ব গঠনে।

   

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ছোটবেলায় মেট্রো বাস চালক হিসেবে কাজ করতেন ক্যারাকাস মেট্রোতে তিনি বাস চালাতেন এবং ভয়েস অফ শ্রমিকদের প্রতিনিধিও ছিলেন। এটা ছিল তার প্রথম সত্যিকারের কাজ।

জ্যোতি চৌহানসহ তিন মহিলা ফুটবলারকে বিদায় জানাল ইস্টবেঙ্গল

যেখানে তিনি সংগঠনশক্তি ও সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ আয়ত্ত করেছিলেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও পরে রিয়েল এস্টেট জগতের অন্যতম সফল নাম, তার প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল বটল সংগ্রহ করা এবং ছোট-খাটো কাজ করে জীবিকা অর্জন করা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তরুণ বয়সে রেল স্টেশনের পাশে বাবার সঙ্গে মিলিয়ে চায়ের দোকানে চা বিক্রি করতেন সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে সাধারণ মানুষের জীবন ও রাজনীতির বাস্তবতার কাছে পোক্ত করেছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিশ্রমী জীবন যাপনের অংশ হিসেবে হিসাবরক্ষণ এর কাজ করেছিলেন, যা তার সংগঠন এবং আর্থিক দক্ষতায় ভূমিকা রেখেছিল।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে নাম করেছিলেন এবং এ গল্প সবার জানা। যেখানে খেলার মাঠে নেতৃত্ব, ধৈর্য্য ও ক্রীড়া মনোভাব তার রাজনৈতিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমে KGB-এর এজেন্ট বা গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছিলেন, যেখানে তিনি শীতল যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা পেশায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাটক ও কমেডি করে নিজের নাম করেছিলেন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে অভিনয় করে তিনি বিনোদনের জগতে জনপ্রিয়তা পান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন, যেখানে তিনি দেশ-নিরাপত্তা ও কৌশলী চিন্তাধারায় প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার পড়াশোনার দিনে আইসক্রিম ভাণ্ডার থেকে আইসক্রিম পরিবেশনও করতেন যা তাকে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ ও সহমর্মিতা শেখায়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় একজন কৃষক হিসেবে কাজ করেছিলেন, যেখানে তিনি কঠোর পরিশ্রম ও গ্রামীণ মানুষের জীবন বুঝেছিলেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ এরডোগান তার কিশোর বয়সে রাস্তার পাশ থেকে সেমিট, লেবুর শরবত বা লেমনেড বিক্রি করতেন যা আজও তার জনসাধারণের কাছে সহজভাবে পৌঁছানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত গল্প। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা একজন শিল্পী এবং পেইন্টার হিসেবেও নাম করেছিলেন।

ক্যানভাসের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার মতো দক্ষতা পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বেও ধরা দেয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি এবোট প্রার্থনা-ভিত্তিক জীবনের দিকে ঝুঁকেছিল, যেখানে তিনি প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণ প্রার্থীর মতো কাজ করেছিলেন।

বুলগেরিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বইক বোরিসভ শুরুর দিকে বডিগার্ড বা সুরক্ষাকর্মীর কাজ করেছেন যা পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের উপলব্ধি তৈরি করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একটি ক্লাবে বাউন্সার হিসেবে কাজ করেছেন যেখানে মানুষের আচরণ ও চাপ সামলানো শেখা যায়। ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন যা তার বক্তৃতা ও মিডিয়া-হ্যান্ডলিং দক্ষতার ভিত্তি স্থাপন করে।

এমন বিভিন্ন পেশা বা কাজে জনপ্রিয় নেতারা নিজেদের জীবন শুরু করেছিলেন যা তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এই গল্পগুলি প্রমাণ করে যে, লিডারশিপ কখনো এক ধরনের পথেই সীমাবদ্ধ থাকে না সাধারণ মানুষের জীবিকা থেকেও বিশ্ব-স্তরে নেতৃত্বের দিকটি গড়ে ওঠে।

Advertisements