কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া (Pawan Khera) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরব হয়ে সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা, নারী নিরাপত্তা এই বিষয়কে সামনে রেখে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে “উদ্বেগজনক ও হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই বিষয়গুলি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
অরাবল্লি পর্বতমালা প্রসঙ্গে পবন খেড়া বলেন, এই প্রাকৃতিক পরিসর রক্ষা করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, অরাবল্লি শুধু একটি পাহাড়ি অঞ্চল নয়, বরং উত্তর ভারতের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম স্তম্ভ। জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর রক্ষা এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণে অরাবল্লির ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু উন্নয়নের নামে লাগাতার খনন ও পরিবেশ ধ্বংসের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ আজ হুমকির মুখে। পবন খেড়ার দাবি, যদি এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তার প্রভাব আগামী প্রজন্মকে ভয়াবহ মূল্য দিতে বাধ্য করবে।
ন্যায়বিচারের প্রশ্নেও কংগ্রেস নেতা আশাবাদী হলেও উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।” তবে বাস্তবে যেভাবে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে, তাতে সাধারণ মানুষের আস্থা নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পবন খেড়ার অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে শাসকদল অভিযুক্তদের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে উদাহরণগুলি বারবার সামনে আসছে, সেগুলি শুধু উদ্বেগজনকই নয়, গভীরভাবে মর্মাহত করার মতো। তাঁর মতে, নারী সুরক্ষা কোনও দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু শাসকদলের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে, ন্যায়ের বদলে রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—এমনই অভিযোগ কংগ্রেস নেতার।
এমজিএনরেগা নিয়েও পবন খেড়া সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ইস্যুতে শুধু কংগ্রেস নয়, এমজিএনরেগা কর্মী এবং এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত মানুষজনও সরকারের অবস্থান মানতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামীণ ভারতের জন্য এমজিএনরেগা একটি জীবনরেখা। কাজের সুযোগ, ন্যূনতম আয় এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের ভূমিকা অপরিসীম।
পবন খেড়ার দাবি, এমজিএনরেগাকে দুর্বল করার চেষ্টা মানে গ্রামীণ দরিদ্রদের উপর সরাসরি আঘাত হানা। তিনি বলেন, বহু পরিবার এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। কাজের দিন কমানো, অর্থ বরাদ্দে কাটছাঁট বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে প্রকল্পটির কার্যকারিতা খর্ব করা হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতাই নয়, সামাজিক স্তর থেকেও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে।
