নিধি তিওয়ারি কে? প্রধানমন্ত্রী মোদীর নতুন ব্যক্তিগত সচিবের পরিচয় জানুন

ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা (Indian Foreign Service)-এর ২০১৪ ব্যাচের একজন তরুণ ও প্রতিভাবান কর্মকর্তা নিধি তিওয়ারি (Nidhi Tewari) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) নতুন ব্যক্তিগত…

Who is Nidhi Tewari? Meet PM Narendra Modi Newly Appointed Private Secretary"

ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা (Indian Foreign Service)-এর ২০১৪ ব্যাচের একজন তরুণ ও প্রতিভাবান কর্মকর্তা নিধি তিওয়ারি (Nidhi Tewari) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) নতুন ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি এই নিয়োগ অনুমোদন করেছে এবং গত ২৯ মার্চ কার্মিক ও প্রশিক্ষণ বিভাগ (ডিওপিটি) থেকে জারি করা একটি আদেশে তাৎক্ষণিকভাবে এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) নিধি তিওয়ারির এই নতুন ভূমিকা তাকে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী কার্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করেছে।

   

পিএমও-তে ধাপে ধাপে উত্থান

নিধি তিওয়ারি ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তার কার্যক্ষমতা এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি ডেপুটি সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন। এই পদে থাকাকালীন তিনি বিদেশ ও নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নতুন পদোন্নতি তাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়ে এসেছে, যা তার কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। এই পদে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন সময়সূচী, চিঠিপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

Advertisements

শিক্ষা ও প্রাথমিক জীবন

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর মহমূরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নিধি তিওয়ারি প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোকসভা কেন্দ্রের একজন সন্তান। মোদী ২০১৪ সাল থেকে বারাণসী থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। নিধি ২০১৩ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৯৬তম স্থান অর্জন করেন। এই পরীক্ষায় সফলতার আগে তিনি বারাণসীতে সহকারী কমিশনার (কমার্শিয়াল ট্যাক্স) হিসেবে কাজ করতেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তার এই নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম তাকে ভারতীয় বিদেশ পরিষেবায় প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।

বিদেশ মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞতা

পিএমও-তে যোগ দেওয়ার আগে নিধি তিওয়ারি বিদেশ মন্ত্রণালয়ে (এমইএ) নিয়োজিত ছিলেন। সেখানে তিনি নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিভাগে কাজ করেছেন। এই বিভাগটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালের অধীনে কাজ করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা বিষয়ে তার দক্ষতা তাকে পিএমও-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সাহায্য করেছে। ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির সময় তিনি কৌশলগত নীতি প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিধি তিওয়ারির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিদেশ নীতি, পারমাণবিক শক্তি, নিরাপত্তা বিষয় এবং রাজস্থান রাজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোর তদারকি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সাধন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবেন। তার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং বিদেশ নীতির গভীর জ্ঞান তাকে এই দায়িত্ব পালনে অনন্যভাবে সক্ষম করে তুলেছে। জি২০ সম্মেলনের সময় ভারতের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভূমিকা পালনে তার অবদান উল্লেখযোগ্য ছিল।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

নিধি তিওয়ারি তার প্রশিক্ষণকালীন সময়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ২০১৬ সালে অ্যাম্বাসাডর বিমল সান্যাল মেমোরিয়াল মেডেল এবং সেরা ডিসার্টেশনের জন্য মেডেল পেয়েছিলেন। এই পুরস্কারগুলো তার একাডেমিক এবং পেশাদার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। তার এই যাত্রা বারাণসীর একজন সাধারণ মেয়ে থেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব পর্যন্ত উঠে আসার এক অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প।

নিধি তিওয়ারির গুরুত্ব

২৪ বছর বয়সে আইএফএসে যোগ দেওয়া নিধি তিওয়ারি সম্ভবত এই পদে নিযুক্ত সর্বকনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন। তার দ্রুত উত্থান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন দক্ষ প্রশাসকই নন, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গভীর দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বারাণসীর সঙ্গে তার সংযোগ এই নিয়োগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর দলে নতুন মুখ

নিধি তিওয়ারির আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দুজন ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন—বিবেক কুমার এবং হার্দিক সতীশচন্দ্র শাহ। নিধি এখন তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেন। তার নিয়োগকে অনেকে মোদীর প্রশাসনে তরুণ ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, বিদেশ নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিধি তিওয়ারির এই নিয়োগ তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় প্রেরণা। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য তিনি একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন, যিনি কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ কার্যালয়ে পৌঁছেছেন। বারাণসীর একটি মেয়ে থেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব—তার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে স্বপ্ন এবং দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

নিধি তিওয়ারির নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তার বিদেশ নীতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ক দক্ষতা, তরুণ বয়সে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা তাকে এই পদের জন্য আদর্শ প্রার্থী করে তুলেছে। ভারত যখন বিশ্ব মঞ্চে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে, তখন নিধি তিওয়ারির মতো কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তার এই যাত্রা কেবল তার নিজের সাফল্যের গল্প নয়, বরং ভারতের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।