বুধবার লোকসভায় পেশ হবে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল

কেন্দ্রীয় সরকার বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল ২০২৪(Waqf Amendment Bill 2024) উপস্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রি কিরেন রিজিজু। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন,…

Waqf Bill

কেন্দ্রীয় সরকার বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল ২০২৪(Waqf Amendment Bill 2024) উপস্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রি কিরেন রিজিজু। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই বিলটি আগামীকাল প্রশ্নোত্তর পর্বের পরে উপস্থাপন করা হবে এবং তার পরবর্তী ৮ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলবে। রিজিজু আরও জানান, এই আলোচনা বৃদ্ধি করা হতে পারে, তবে তা স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

   

বিলের উপস্থাপন পূর্বে, রিজিজু বিজেপির মুখপাত্রদের কাছে ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই বিলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য লাভজনক এবং এই বিলটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না। বিলটির উদ্দেশ্য হল ওয়াকফ পরিচালনায় সংস্কার আনা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি আরও কার্যকরী করে তোলা।

Advertisements

ওয়াকফ সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য 

ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৪ মূলত ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের সংশোধনমূলক একটি প্রস্তাব। এই বিলটি ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন এবং পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আনা হয়েছে। বিলটি পুরনো আইনের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলির উন্নতি করার চেষ্টা করবে, যেমন ওয়াকফ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আপডেট করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং ওয়াকফ বোর্ডের কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

বিলটি এর মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির আরও উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ প্রবর্তন করবে। এতে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করা হবে, যা সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনবে।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া 

ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। অল ইন্ডিয়া মেজরিটি মুসলিম ফ্রন্ট (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েসি বিলটিকে “সংবিধানবিরোধী” দাবি করে বলেন, এটি ভারতের সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ এবং ২৯ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে। তিনি বলেন, “এটি কোনো ওয়াকফ বিল নয়, এটি একটি ‘ওয়াকফ বারবাদ বিল’।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি মুসলমানদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি দেশের প্রতিটি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বিলের প্রক্রিয়া 

ওয়াকফ সংশোধনী বিল প্রথমবার লোকসভায় গত বছরের আগস্ট মাসে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এরপর একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন জাগদাম্বিকা পাল। এই কমিটি বিলটি নিয়ে আরও আলোচনা এবং পর্যালোচনা করেছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিলটি আবার লোকসভায় উপস্থাপন হতে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভবিষ্যত 

ওয়াকফ সম্পত্তি ভারতবর্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক সম্পত্তি এখানে ওয়াকফ হিসেবে নিবন্ধিত। তবে পুরনো আইনের দুর্বলতার কারণে এই সম্পত্তিগুলির যথাযথ ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই সংশোধনী বিলটি এই সমস্যাগুলির সমাধান দেওয়ার আশা করছে। সরকারের দাবি, বিলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী হবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

তবে বিরোধী দলের অবস্থান থেকে বিলটি সংবিধান এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামীকালের আলোচনা এবং ভোটাভুটির পর কী সিদ্ধান্ত আসে এবং এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য কতটা সহায়ক হবে।