ধারা ৪০ বাতিল: আর রাতারাতি জমি হবে না ওয়াকফ সম্পত্তি

লোকসভায় বুধবার পেশ করা ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৪-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে ধারা ৪০-এর বাতিলকরণ, যার মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ড যে কোনো জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে…

ধারা ৪০ বাতিল: আর রাতারাতি জমি হবে না ওয়াকফ সম্পত্তি

লোকসভায় বুধবার পেশ করা ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৪-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে ধারা ৪০-এর বাতিলকরণ, যার মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ড যে কোনো জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করতে পারত। এই প্রস্তাবিত সংশোধনীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। (wakf amendment bill section 40 repeal)

   

কেন্দ্রীয় মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি পেশ করার সময় বলেন, “ওয়াকফ আইনের সবচেয়ে কঠোর ধারা ছিল ধারা ৪০, যার মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ড নিজের ইচ্ছামতো কোনো জমি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করতে পারত। আমরা সেটি বাতিল করেছি।”

Advertisements

মন্ত্রী আরও বলেন, এই বিলটি রেট্রোস্পেকটিভ নয় এবং এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জমি ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আনা হয়নি, যেটি বিরোধী পক্ষের কিছু নেতা দাবি করছেন। তিনি জানান, নতুন বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে “UMEED” বিল (Unified Waqf Management Empowerment, Efficiency and Development Bill)।

অপব্যবহার ও অনিয়ম বন্ধে বড় পদক্ষেপ wakf amendment bill section 40 repeal

রিজিজু জানান, বর্তমান ওয়াকফ আইনের ধারা ৪০ কিছু লোকের দ্বারা অপব্যবহৃত হচ্ছিল, যার ফলে ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। “এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল যে ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছে গিয়েছিল,” তিনি মন্তব্য করেন।

ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে আপিলের সুযোগ wakf amendment bill section 40 repeal

ওয়াকফ সংশোধনী বিল অনুযায়ী, ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে হাই কোর্টে আপিল করা যাবে, যা আগে ছিল না। রিজিজু বলেন, এ পদক্ষেপটি প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ এবং সহজ করবে।

জেলা কালেক্টরের অধীনে সিদ্ধান্ত wakf amendment bill section 40 repeal

নতুন বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি কী হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব এবার জেলা কালেক্টরের হাতে থাকবে, যা আগে ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে ছিল।

‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ প্রথার অবসান wakf amendment bill section 40 repeal

এই বিলটি ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ প্রথাও বাতিল করবে, যার মাধ্যমে ধর্মীয় কাজে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হত। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র সেই ব্যক্তি যা কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী ধর্মীয় কাজে জমি ব্যবহার করেছে, সে-ই সেই জমি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন, এবং জমিটি অবশ্যই তার মালিকানাধীন হতে হবে।

সংসদ ভবন বা বিমানবন্দরও হতে পারত ওয়াকফ সম্পত্তি! wakf amendment bill section 40 repeal

রিজিজু বলেন, আগে আইনের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে সংসদ ভবন, দিল্লি বিমানবন্দর বা CGO কমপ্লেক্স-ও ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা হতে পারত। “এটা ছিল আইনের অপব্যবহার,” তিনি বলেন। নতুন বিলটি ঠিক এমন অস্বাভাবিক জমি দাবি বন্ধ করতে সাহায্য করবে।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া wakf amendment bill section 40 repeal

বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে কংগ্রেস, এই বিলটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। কংগ্রেসের এমপি গৌরব গোগই অভিযোগ করেছেন, এই বিলটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার হরণ করবে এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করবে।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, এই বিলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্যই আনা হয়েছে, এবং এটি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা আনার চেষ্টা করছে।

দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া wakf amendment bill section 40 repeal

ওয়াকফ বিল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে। কেরল এবং হরিয়ানা-র কিছু এলাকায় মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাদের জমি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দাবি করার প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সংক্ষেপে, ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি এখন UMEED বিল নামে পরিচিত, এবং এটি ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিক উন্মোচন করবে।

 

Bharat: Lok Sabha debates Wakf Amendment Bill 2024, focusing on repealing Section 40. Minister Kiren Rijiju defends the move, citing misuse of Wakf property laws. Learn about the UMEED initiative and its impact on minority rights.