ভেনেজ়ুয়েলায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা, হস্তক্ষেপ নিয়ে মুখ খুললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

venezuela-in-turmoil-british-prime-minister-weighs-in-on-possible-intervention
venezuela-in-turmoil-british-prime-minister-weighs-in-on-possible-intervention

ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার কথিত সেনা অভিযানের জল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (keir starmer) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ভেনেজ়ুয়েলায় কোনও মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে ব্রিটেন কোনওভাবেই জড়িত নয়। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে একটাই কাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সমস্ত তথ্য ভালো করে খতিয়ে দেখা। কারণ চারদিকে অনেক বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়ছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্রিটেনের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজ়ুয়েলার রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন, বিতর্কিত নির্বাচন এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ দেশটিকে ক্রমশ অস্থির করে তুলেছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। কিয়ের স্টার্মার জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটেন এই ধরনের গুজব বা অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় না। তাঁর কথায়, “আমরা দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে কাজ করি। সত্য যাচাই না করে কোনও অবস্থান নেওয়া বা মন্তব্য করা আমাদের নীতির মধ্যে পড়ে না।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

   

একই সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলায় বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “ভেনেজ়ুয়েলায় থাকা আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে তাঁদের সহায়তার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” লন্ডনের তরফে ইতিমধ্যেই সেখানে থাকা ব্রিটিশ দূতাবাসকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টার্মারের এই মন্তব্য মূলত দু’টি বার্তা বহন করছে। প্রথমত, ব্রিটেন কোনও সামরিক উত্তেজনা উসকে দিতে চায় না এবং ভেনেজ়ুয়েলা ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ভুয়ো খবর ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভেনেজ়ুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তবে সামরিক হস্তক্ষেপ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানই যে ব্রিটেনের পছন্দ, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই ব্রিটেন তাদের অবস্থান নির্ধারণ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কিয়ের স্টার্মারের বক্তব্য তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তিনি সংঘাতের বদলে স্বচ্ছতা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর জোর দিচ্ছেন। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে রাষ্ট্রনেতার এই ধরনের সতর্ক বার্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

 

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন