সব স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Breaking Down the Viksit Bharat Shiksha Bill 2025 for Students and Institutions
Breaking Down the Viksit Bharat Shiksha Bill 2025 for Students and Institutions

দেশাত্মবোধ ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সোমবার ঘোষণা করলেন, রাজ্যের সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।

গোরখপুরে আয়োজিত ‘একতা যাত্রা’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ সম্মিলিত গানের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় সংগীতের মতোই আমাদের জাতীয় গানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকা উচিত। ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের আত্মা, এটি আমাদের গৌরবের প্রতীক। তাই রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।”

   

যোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সংগীত নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জাতীয় গর্ব ও ঐক্যের মূল্যবোধ জাগ্রত করা। তাঁর কথায়, “যে প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে, তারাই আগামী ভারতের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে।”

‘বন্দে মাতরম’ বিরোধীদের আক্রমণ যোগীর

বক্তব্যের সময়ই যোগী আদিত্যনাথ পরোক্ষভাবে সমাজবাদী পার্টির এক সাংসদকে আক্রমণ করেন, যিনি সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। যোগীর কটাক্ষ, “যারা আজ জাতীয় গানের বিরোধিতা করছেন, তারাই সেই মানুষ যারা সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তীতে অনুপস্থিত থাকেন, কিন্তু জিন্নার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দ্বিধা করেন না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যেন আর কোনও ‘নতুন জিন্না’র জন্ম হতে না দিই। কেউ যদি ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তার সেই বিভাজনমুখী মানসিকতাকে মাটিচাপা দিতে হবে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ‘বন্দে মাতরম’ Vande Mataram Mandatory UP Schools

যোগী তাঁর বক্তৃতায় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসও টেনে আনেন। তিনি স্মরণ করান, ১৮৯৬ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রতিটি অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হত। কিন্তু ১৯২৩ সালে যখন মুহম্মদ আলি জওহার কংগ্রেস সভাপতি হন, তিনি গান শুরু হতেই সভা ত্যাগ করেন। যোগীর মতে, “সেই সময় থেকেই এই গানের বিরোধিতা শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত দেশের বিভাজনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা

উল্লেখযোগ্যভাবে, যোগীর এই ঘোষণা এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ঘোষণার ঠিক কয়েকদিন পরেই। গত সপ্তাহে দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দু’বছরব্যাপী জাতীয় উদ্‌যাপনের সূচনা করেন।

১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অক্ষয় নবমীর দিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেন ‘বন্দে মাতরম’। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় সাহিত্যপত্রিকা বঙ্গদর্শন-এ, তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এর অংশ হিসেবে। স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা এই গান ভারতীয় চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই অনুষ্ঠানে বলেন, “‘বন্দে মাতরম’ ভারতের ঐক্যের প্রকৃত প্রতীক। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। আজ এই ১৫০ বছরের যাত্রা নতুন উদ্দীপনা ও গর্বে ভরিয়ে তুলবে আমাদের দেশবাসীকে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “‘বন্দে মাতরম’-এর মূল অনুভূতি ‘ভারতমাতা’। ভারত এমন এক জাতি, যা অতীতের প্রতিটি আঘাত সহ্য করে আজও অমরত্বের প্রতীক হয়ে আছে।”

জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নতুন উদ্যোগ

রাজ্য সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে। প্রতিদিন প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে, এবং মাসে অন্তত একবার বিশেষ ‘দেশপ্রেম দিবস’ পালনের নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।

যোগীর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক মহল মনে করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের বার্তা আরও গভীরভাবে প্রোথিত হবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন