নয়াদিল্লি: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ কি এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জনগণমন’-র সমান আইনি সুরক্ষা পেতে চলেছে? দেশের ‘জাতীয় গান’ (National Song)-কে ‘জাতীয় সঙ্গীত’ (National Anthem)-এর সমমর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মোদী সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে এই সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা ও শিষ্টাচার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ
১৫০ বছর পূর্তি ও সরকারি পরিকল্পনা ১৮৭৫ সালে রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ বা ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বছরব্যাপী উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এই গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ১৯৫০ সালে সংবিধান সভায় এই গানটিকে জাতীয় গানের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও এর অবমাননা রুখতে নির্দিষ্ট কোনো আইনি বিধিমালা নেই। ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই উদযাপনের মধ্যেই সরকার নতুন কোনও আইন বা নির্দেশিকা আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
৫১এ ধারা অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শন Vande Mataram legal status
আইনি বাধ্যবাধকতার গুরুত্ব জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৫১এ ধারা অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক এবং অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল হতে পারে। কিন্তু বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই বন্দে মাতরম গাওয়ার সময়ও উঠে দাঁড়ানো বা নির্দিষ্ট আচরণবিধি পালন করা আবশ্যক করা উচিত কি না।
একাধিক মামলা
আদালতের অবস্থান ও বিতর্ক জাতীয় গানকে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোয় বাঁধার জন্য অতীতে সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাইকোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছিল যে, জাতীয় সঙ্গীতের মতো বন্দে মাতরমের জন্য তেমন কোনো আইনি সুরক্ষা নেই। অন্যদিকে, বিজেপি দীর্ঘকাল ধরেই বন্দে মাতরমের মর্যাদা বৃদ্ধির সওয়াল করে আসছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে এই গানের গুরুত্ব কমানোর অভিযোগও তুলেছে তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। যদিও সরকারের তরফে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে বন্দে মাতরমের জন্য কড়া নিয়ম বা শাস্তি নির্ধারিত হলে তা দেশের জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে।
