প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৯ এপ্রিল কাশ্মীরের জন্য প্রথম বন্দে ভারত ট্রেন(Vande Bharat Train) উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এ ট্রেনটি উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেলপথ প্রকল্পের ২৭২ কিলোমিটার সম্পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে চালু হতে যাচ্ছে।
এ ট্রেনটি প্রথমে কাটরা থেকে চলবে, কারণ বর্তমানে জম্মু রেলওয়ে স্টেশন সংস্কারের কাজ চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাটরা-বারামুল্লা রুটে ট্রেনটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং জানুয়ারি মাসে রেল নিরাপত্তা কমিশনার ট্রেন সেবার অনুমোদন দিয়েছেন।
নতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস কাশ্মীরের মধ্যে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। যা অঞ্চলের জন্য আধুনিক এবং দক্ষ রেল পরিষেবা প্রদান করবে। কর্মকর্তাদের মতে, এটি জম্মু ও শ্রীনগরের মধ্যে যাতায়াতের সময় ব্যাপকভাবে কমাবে এবং কাশ্মীরের যাত্রীদের জন্য সেবা উন্নত করবে।
জিতেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য
রবিবার জম্মুতে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি ১৯ এপ্রিল উধমপুরে আসবেন। সেখানে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু উদ্বোধন করবেন। এর পরে তিনি কাটরা থেকে বন্দে ভারত ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন।” তিনি আরও জানান, এই ট্রেনের উদ্বোধন কাশ্মীরের সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে। বর্তমানে কেবলমাত্র সাঙ্গলদান থেকে বারামুল্লা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে এবং কাটরা থেকে দেশের অন্যান্য জায়গায় ট্রেন চলাচল করছে।
প্রকল্পের ইতিহাস এবং চ্যালেঞ্জ
কাশ্মীর রেলপথ সংযোগ প্রকল্পটি ১৯৯৭ সালে শুরু হয়েছিল, তবে ভূগোল, পরিবেশগত অবস্থা এবং আবহাওয়া কারণে প্রকল্পটি বহুবার স্থগিত হয়েছে। তবে, অবশেষে এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় মোট ৩৮টি সুড়ঙ্গ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘটি হলো ১২.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি, যা দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ পরিবহন টানেল হিসেবে পরিচিত।
এই প্রকল্পে আরও ৯২৭টি সেতু রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৩ কিলোমিটার। এদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেতু হলো চেনাব সেতু, যা ১,৩১৫ মিটার দীর্ঘ, এর আর্চ স্প্যান ৪৬৭ মিটার এবং এটি নদী তলদেশ থেকে ৩৫৯ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। চেনাব সেতু পৃথিবীর সর্বোচ্চ আর্চ রেল সেতু হবে, যা আইফেল টাওয়ার থেকে ৩৫ মিটার উচ্চতর।
ভান্ডে ভারত এক্সপ্রেসের সুবিধা
ভান্ডে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনটি আধুনিক রেলের বৈশিষ্ট্য বহন করবে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত যাত্রী সেবা, দ্রুত গতির চলাচল এবং আরামদায়ক যাত্রা। কাশ্মীরের সঙ্গে আরও উন্নত সংযোগ স্থাপন করা হবে এবং এটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ ট্রেনটির উদ্বোধন কেবল রেলপথ সংযোগের উন্নতি নয়, বরং কাশ্মীরের পর্যটন এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কাশ্মীর এবং অন্যান্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে আরো ত্বরিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করবে।
উদ্বোধনের পরবর্তী পরিকল্পনা
ভান্ডে ভারত এক্সপ্রেস চালু হওয়া কাশ্মীরের মানুষের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত, যা তাদের যাতায়াতের সমস্যা দূর করবে এবং সারা দেশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী মোদির কাশ্মীরে আগমন একটি বড় রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাশ্মীরের রেল সংযোগের স্বপ্ন পুরণ হবে এবং এটি কেবল যাত্রীদের জন্য নয়, বরং অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।