১২ টি রাজ্যে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ প্রায় শেষের পথে (UP voter list SIR verification)। বঙ্গে কত নাম বাদ যাচ্ছে তা নিয়ে বিরোধী দল বিজেপির আগ্রহই সঞ্চয়ে বেশি। কেউ বলছেন ১ কোটি, কেউ আবার তার চেয়েও বেশি। কিন্তু যোগী রাজ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।
যোগী রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে প্রায় ৩ কোটি নাম ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ যেন এক নজিরবিহীন ঘটনা। উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে চলা SIR এর পর যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অভূতপূর্ব তো বটেই, উদ্বেগও বাড়িয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মোট ১৫.৪৪ কোটি ভোটারের রাজ্যে প্রায় ২.৯ কোটি নাম মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা সামনে এসেছে অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ১৮.৮৪ শতাংশ।
নিলামে কাদের দিকে নজর শাহরুখের দলের? ফাঁস প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের!
এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ১.২৭ কোটি অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটার, ৮৪.৭৩ লক্ষ অনুপস্থিত ব্যক্তি, ৪৬ লক্ষ মৃত ভোটার, এবং ২৩.৭০ লক্ষ ডুপ্লিকেট নাম। প্রশাসনিক হিসাব বলছে, দীর্ঘদিন ধরে পেন্ডিং থাকা সংশোধন, ঠিকানা পরিবর্তন, মৃত্যু-তথ্য আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তৈরি অনিয়ম সব মিলিয়ে এত বিশাল ‘error pool’ তৈরি হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায়। এবার SIR প্রক্রিয়ায় সেটাই ধরা পড়ছে খুঁটিয়ে।
এই বিশাল সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে SIR যাচাইয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। রাজ্যের BLO-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি সংবেদনশীল ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাই করতে। শুধু তাই নয়, এবার মাঠপর্যায়ে আরও স্বচ্ছতা আনতে BLO-দের তৈরি তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোর বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গেও শেয়ার করা হবে, যাতে প্রতিটি নাম বাদ দেওয়া আগে ক্রস-চেক করা যায়।
রাজনৈতিক দলগুলোও বুঝতে পারছে, এত বিপুল নাম বাদ যাওয়া মানে আগামী নির্বাচনে ভোটের হেরফের হতে পারে ব্যাপক। তাই প্রতিটি দলই এখন নিজেদের জনসংযোগ বাড়াচ্ছে, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের পাঠাচ্ছে যাচাইয়ের কাজে।
উত্তরপ্রদেশে এই বিপুল সংখ্যক ‘ভুল ভোটার’ শনাক্ত হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যদি UP-তে এত অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে পশ্চিমবঙ্গের চিত্র কেমন? সামাজিক মাধ্যম থেকে সাধারণ রাজনীতি বিশ্লেষক—অনেকেই মনে করছেন, বাংলাতেও দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট নাম, মৃত ভোটার, ভুয়ো ঠিকানার এন্ট্রি জমে আছে। কারণ একাধিক নির্বাচনে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়।
তাই, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “বঙ্গেও যদি নিরপেক্ষ ও গভীর SIR চালানো হয়, তবে আরও বড় অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে” যদিও এ নিয়ে সরকারি কোনও পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে জনমতের চাপ স্পষ্ট বাংলার মত রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাজ্যে ‘নিরপেক্ষ SIR’ স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম ভুল বা ডুপ্লিকেট থাকা মানে শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, তা সরাসরি প্রভাব ফেলে নির্বাচনের ন্যায্যতায়। এছাড়াও তা প্রভাব ফেলে বুথ পর্যায়ের নিরাপত্তায়, ভোট টার্নআউটের মানে এবং নাগরিকের আস্থায়। UP-র এই সাফাই অভিযানের পর দেশজুড়ে এখন চাপ বাড়ছে অন্য রাজ্যগুলির ওপরও পুনর্বিবেচনা করতে ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের কাজকর্মের ওপর।
উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন জানিয়েছে এটি কোনও রাজনৈতিক কাজ নয়, বরং একটি প্রযুক্তি-ভিত্তিক, মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি নামের পেছনে চেক করা হচ্ছে সুস্পষ্ট নথি। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে UP-র ভোটার তালিকা হবে গত দশকের সবচেয়ে ‘হাইজিনিক ও বিশ্বাসযোগ্য’ তালিকা। এখন নজর শুধু ৩১ ডিসেম্বরের দিকে শেষ পর্যন্ত কত নাম থেকে যায়, কত বাদ যায়, আর তা কীভাবে রাজ্যের ভোটের অঙ্ক বদলে দেয়। আর একই সঙ্গে একটাই প্রশ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে বাংলা কি UP-র পথ অনুসরণ করবে?
